নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের পাট কাটা। এবার কৃষকরা মাঠে মাঠে পাট কাটার কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। তবে পাটের দাম ভালো হলেও এবার কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ পড়েছে। অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাটের ফলন কম হয়েছে। ফলে কাঙ্খিত ফলনে রয়েছে ঘাটতি। এদিকে কৃষি বিভাগ জানায় কৃষকরা পাটের দামে ফলনের লোকশান কাটিয়ে উঠতে পারবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা বিভিন্ন মাঠঘুরে এতথ্য জানাগেছে।
জানা যায়, এবার চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৮ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে পাট আবাদে ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি এবার। পাট কাটার আগ মুহুর্তে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে পাট হেলে পড়ে। ফলে পাটের কাঙ্খিত ফলন হবে না এমনটা আশঙ্কা করেছে কৃষকরা। এক বিঘা পাট উৎপাদনে খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিঘায় ৮ থেকে ১২ মণ পাট হয়। এবার গতবছরের তুলনায় পাটের দামে ৫০০ টাকা বাড়তি হয়েছে বাজারদর। এক মণ পাটের দাম বাজারে ৪ হাজার টাকা। আবার পাটকাঠির দামও বেশি। তাই পাটের দামে হাসবে কৃষক এমনটা দাবি জেলা কৃষি বিভাগের। কিন্তু কৃষকদের মুখে হাসি নেই। প্রতিবারের ন্যায় এবারো কপালে আকাশ ভরা দুশ্চিন্তার বর্ণ নিয়ে পাট কাটছে কৃষক।
কৃষি বিভাগ দাবি করে জানান, পাটের দামও ভালো। আবার ফলন মুটামুটি ভালো হয়েছে। এবার পাট জাঁগ দেয়ার কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। এবার খালবিল পুকুর ভরাট পানি রয়েছে। ফলে কৃষকরা পাটের দামে খুশি হবে চাষীরা। আর পাট চাষাবাদ বা[ড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সাথে মাঠ দিবসে পাটের আবাদ বাড়ানোর জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলা বেলগাছি গ্রামের পাট চাষী হাসমত আলী বলেন,‘ এবার পাট কাটছি। পাটে ভালো ফলন হয়নি। পাটের দামের বাজার চড়া। ফলে এবার পাট কাটা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা। আবার কৃষি উপকরণের দামও বেশি। এই মুহুর্তে পাটের ফলনটা খুব দরকার ছিল’।
আরেক কৃষক আসাদুল হক বলেন,‘ এক বিঘায় পাটের খরচ হয় সব কিছু দিয়ে প্রায় ২ হাজার টাকা। অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাটের ফলন কম হয়েছে এবার। তাই পাটের ভালো ফলন পাচ্ছি না। এতে কৃষকরা লোকশানে পড়ে যাচ্ছে। তাই পাটের দাম বাড়লেও দুশ্চিন্তা রয়ে যাচ্ছে’।
এবিষয়ে কথা হলে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, তিনি বলেন, এবার গতবছরের তুলনায় পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ পাট কাটা হয়ে গেছে। পাট পচানোর জন্য যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত রয়েছে। এবার পাটের দাম বেশি। ফলে পাটের যে উৎপাদন ফলন তা পুষিয়ে যাবে। দাম ভালো তাই কৃষক এবারও হাসবে। তাছাড়া পাট চাষাবাদ বাড়ানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।