নিজস্ব প্রতিবেদক:
দর্শনা রেলবাজারে এখন বাজার করতে এলে প্রথম প্রশ্নটা আর দামের নয়, ব্যাগটা চোখের সামনে থাকবে তো? দিনের আলোতে, উপচে পড়া ভিড়ের মাঝেই একের পর এক বাজারের ব্যাগ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অন্তত ৮ জন নারী ও ১ জন পুরুষ ক্রেতার বাজারের ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাছ, মাংস, চাল, কসমেটিকসসহ কয়েক হাজার টাকার বাজারসামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোরেরা।
দর্শনা চালবাজারে ঢুকতে জাহাঙ্গীর স্টোরের ব্যবসায়ী রাসেল জানান, ‘গত দুই দিনে ৮ জন নারী ও ১ জন পুরুষের ব্যাগ চুরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে- কেউ মাস্ক, কেউ মুখোশ, কেউ আবার বোরকা পরা। কে আসল ক্রেতা, কে চোর—চেনা দায়। আজ রোববার দুপুরেই আমার দোকানের দুই নারী ক্রেতার প্রায় ৫ হাজার টাকার মাছ-মাংসসহ বাজারের ব্যাগ চুরি হয়েছে।’
একইদিন সন্ধ্যায় রাজধানী স্টোরের পাশে এক ব্যক্তির প্রায় ২ হাজার টাকার কসমেটিকসের ব্যাগ উধাও হয়। এর আগের দিন মো. বাসারের চালের দোকানের সামনে এক স্কুল শিক্ষিকার প্রায় ৫ হাজার টাকার বাজারের ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে।
রেলবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সুবহান মিয়া বলেন, ‘শনিবার ও রোববার আমার দোকানের সামনে দুইজন নারী বাজার করে ব্যাগ পাশে রেখে অন্য জিনিস নিতে গিয়েছিলেন। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যাগ উধাও। কখন, কীভাবে নিয়ে গেল- টেরই পাইনি।’
এছাড়াও লাল্টু কসাই, শামিম মুরগির দোকান, আতিক স্টোর, সুবহান স্টোর, হক স্টোর, মায়ের দোয়া স্টোরসহ একাধিক দোকানের আশপাশ থেকে ধারাবাহিকভাবে বাজারের ব্যাগ চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুই-একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট- এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। ফুটেজ অনুযায়ী বোরকা পরা নারীসদৃশ ব্যক্তিরাই সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। এ বিষয়ে দর্শনা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, ‘চুরির ঘটনার কথা শুনেছি। রেলবাজার পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। গত দুই দিনে এর মাত্রা বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—দুই পক্ষকেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।’ এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন- এই চোরচক্র কি বাইরের এলাকা থেকে এসে কাজ করছে, নাকি স্থানীয় কেউ এর সঙ্গে জড়িত? ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো, পুরো রেলবাজার এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।