জীবননগর অফিস:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর সমর্থনে জীবননগরে এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই গণমিছিলে স্বয়ং প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি জীবননগর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে শহরের চ্যাংখালী সড়ক প্রদক্ষিণ করে জীবননগর স্টেডিয়াম মাঠে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এর আগে বিকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে নানা বয়সী নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘আমাদের সুশৃঙ্খল হতে হবে, আইন মেনে চলতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলে দলে গিয়ে ভোট দিতে হবে। আমি আমার ভোট দেব, পাশাপাশি অন্যরা যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিতে পারে- সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে- অমুক দলের লোক, অমুক ধর্মের লোক ভোট দিতে গেলে দেখে নেওয়া হবে। আমাদের দায়িত্ব হবে এ ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হুমকির বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং নির্বাচনকে উৎসবমুখর রাখা।’
প্রধান প্রতিপক্ষ দলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ- এটা নাম করেই বললাম। তারা আমাদের শত্রু নয়। তবে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় যে কথা বলছে- নারী ভোটাররা নাকি সবাই তাদের ভোট দিয়ে দিয়েছে- এটা সম্পূর্ণ ভুয়া। যদি নারীদের প্রতি সত্যিই তাদের সম্মান থাকত, নারীর ক্ষমতায়নে যদি বিশ্বাস করতেন, তাহলে অন্তত ৩০০ আসনের মধ্যে একজন নারীকে মনোনয়ন দিতেন। কিন্তু তারা তা দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ভোট দেওয়ার পর এবং পরিবারের সবাই ভোট দেওয়ার পর আমাদের কেন্দ্রের পাশের ক্যাম্পে অবস্থান করব। এই অবস্থান কোনো হাঙ্গামা বা মারামারির জন্য নয়। বরং নির্বাচনকে আরও বেশি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য।’
জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীরের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান, জীবননগর পৌরসভার সাবেক মেয়র আরশাফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী।
গণমিছিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জীবননগর শহর পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে।