নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় রেক্টিফাইড স্পিরিট (আরএস) পানে বিষক্রিয়া এবং এর ফলে অকাল মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমান। এতে রেক্টিফাইড স্পিরিটের অপব্যবহারের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নেশা হিসেবে এর ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ এবং এটি পানে মৃত্যুঝুঁকি কতটা বেশি—সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অবৈধভাবে স্পিরিট বিক্রয় ও ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় জানানো হয়, সকল হোমিও চিকিৎসকদের স্পিরিটজাতীয় ঔষধ সামগ্রী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় যেসব স্পিরিট ব্যবহার হয়, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কোনো অ্যালকোহলজাতীয় ঔষধের উপাদান বিক্রয়, মজুদ, বিতরণ বা প্রদর্শনের জন্য অনুমোদন নিতে হবে। মাদক ও স্পিরিটের অপব্যবহার রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ তারিক আহমেদ, হোমিও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ও আসমা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক তাহমিদ জামিল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহ জামাল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জেলার হোমিও চিকিৎসকগণ।