নিজস্ব প্রতিবেদক:
শ্রমিক সর্দারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের আন্দোলনে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর সারগুদামের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সার ডিলাররা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গত রবিবার শুরু হওয়া এ আন্দোলন সোমবারও অব্যাহত থাকে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। এ সময় ঘটনাস্থলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রমিক সর্দার মঞ্জুর ওরফে ডাসা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাসোয়ারা আদায় করে আসছেন। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে তার নেতৃত্বে কাজ করার সময় নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার কয়েকজন নিকটাত্মীয় প্রকৃতপক্ষে কাজ না করলেও কাগজে-কলমে শ্রমিক দেখিয়ে লেবার বিল উত্তোলনের অভিযোগও তোলেন তারা। বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করেও শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, ‘মঞ্জুর ওরফে ডাসা অস্ত্র নিয়ে গুদামে এসে সর্দারির দাযয়িত্ব পালন করেন এবং আমাদের হুমকি দিয়ে টাকা নেন।’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মঞ্জুর ওরফে ডাসা। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই সর্দারির দায়িত্ব পালন করছি। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগরে অবস্থিত বিএডিসি সারগুদামে কর্মরত ৩৬ জন শ্রমিক এ অভিযোগে রবিবার থেকে আন্দোলনে নামেন। ওইদিন সকালে সারগুদাম খোলার পর শ্রমিকদের সঙ্গে সর্দারের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চুয়াডাঙ্গা অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শ্রমিকরা স্থান ত্যাগ করলেও সারগুদামের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। গতকাল সামবার সকাল থেকে পুনরায় আন্দোলন শুরু হয়।
এ বিষয়ে বিএডিসি চুয়াডাঙ্গার উপসহকারী পরিচালক (সার) শংকর দাশ বলেন, ‘যথানিয়মেই সার বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। শ্রমিকদের সমস্যার কারণে তা ব্যাহত হয়েছে। আশা করছি দ্রুত স্বাভাবিকভাবে সার বিতরণ শুরু হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেলায় বিএডিসি গুদাম থেকে দুই শতাধিক ডিলার সার সংগ্রহ করে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে সরবরাহ করে থাকেন। বর্তমান অচলাবস্থায় সার সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।