শেখ লিটন:
দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা-২ (সদর আংশিক, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটের এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রাম-গঞ্জে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী অফিসে নেতাকর্মীদের পদচারণা আর প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে মুখর এখন এ জনপদ।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুই প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু উন্নতমানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পিছিয়ে নেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমীন। তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং দর্শনার কেরু চিনিকলকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিবও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি। একাধারে তিনি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট। রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষের পদেও। বলা চলে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের গোটা বিএনপি তার একক নিয়ন্ত্রণে। ফলে প্রসঙ্গতই তিনি এ আসনের জন্য হেভিওয়েট প্রার্থী। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. রুহুল আমিন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর। ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতৃত্ব দিয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারির পর দীর্ঘ কয়েকবছর একক হাতে সামলাচ্ছেন গোটা দলকে। এমনকি দলের দুঃসময়েও তার অবদান অস্বীকার করেন না নেতাকর্মীরা। তিনিই এবার এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। হেভিওয়েট প্রার্থী রুহুল আমিনও পিছিয়ে নেই। আভাস মিলেছে, জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতের শীর্ষ পদের এই দুই নেতার লড়াই এখন তুঙ্গে।
নির্বাচনী মাঠের পর্যবেক্ষণ বলছে, শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্রই নির্বাচনী অফিসগুলো এখন সরগরম। বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। সমান্তরালভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরাও। নারী ভোটার ও নতুন ভোটারদের সমর্থন পাবে বলে আশাবাদী জামায়াত। এ আসনটিতে একাধিকবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও জয়ী হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। ফলে এ আসেন এবার শক্ত ঘাঁটি গেড়েছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় থেকে নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছে।
একজন ভোটার তানভীর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একজন প্রতিনিধি চাই, যিনি যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন। আমাদের প্রধান দাবি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।’
তরুণ ভোটার কালাম পাশা বলেন, সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় এখানে মাদক ও চোরাচালান বড় সমস্যা। তিনি বলেন, ‘এখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান এখনো অনুন্নত। যিনি নির্বাচিত হবেন, তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।’
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘যত বেশি প্রচার করছি, তত বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমরা এ এলাকায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে চাই। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়নের আলাদা সমস্যার সমাধানে কাজ করব।’
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমীন বলেন, ‘মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে আমরা কাজ করতে চাই। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়া এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব বলেন, ‘কৃষক, ছাত্রসহ সব শ্রেণির সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো দুর্নীতি। বাংলাদেশকে যদি দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশ এগিয়ে যাবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩২ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। সদর আংশিক, দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর নিয়ে গঠিত এ আসনে ১৭৪টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে মোট ৯২৬টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।