নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার কুলচারা গ্রামে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃত গাফিলতিতে নিম্নমানের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে কাজ শেষ করলে ৬ মাসে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ঘুষ বাণিজ্যেরও অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কথাতেও মিলেছে গড়মিল তথ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রকল্প অনুযায়ী যে আকারের পাথর ব্যবহার করার কথা, তার চেয়ে বড় সাইজের পাথর দেওয়া হচ্ছে, যা রাস্তার স্থায়িত্বে বড় প্রভাব ফেলবে। আমরা এই অনিয়ম মানতে পারি না, যে কারনে গ্রামবাসী একজোট হয়ে রাস্তার কাজ সাময়িক বন্ধ করে দিই।’
গ্রামের মোড়পাড়ার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম রিমন জানান, ‘রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের কাজ এতটাই নিম্নমানের যে, পা দিয়ে ঘষা দিলেই পাথর উঠে যাচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই বিটুমিন আলগা হয়ে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। পুরো কাজটাই যেওন-তেন করে করার চেষ্টা করছে ইঞ্জিনিয়ার রাকিব।
আরেক বাসিন্দা ইমন আহম্মেদ বলেন, ‘সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করে পিচ ঢালা হচ্ছে, ফলে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে থাকবে, যা জনদুর্ভোগ বাড়াবে। এছাড়া, বড় সাইজের পাথর ১০ শতাংশ ধরা আছে, প্রকল্পে। তবে এখানে ৬০ শতাংশই বড় পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বললেও ইঞ্জিনিয়ার রাকিব মানতে চাইছেন না। অথচ, তার সামনে মেশানো হচ্ছে। তিনি ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে আমরা গ্রামবাসী একজোট হয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।’
কুলচারা বড় মসজিদপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব কাজ পরিদর্শনে এলেও কোনো মন্তব্য না করেই চলে গেছেন। আমরা তাকে জবাবদিহির জন্য কথা বলতে চাইলে তিনি অন্য রাস্তা দিয়ে চলে যান। আমরা চাই, সরকারি টাকার যথাযথ ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ হোক। তা না হলে বছর পার হওয়ার আগেই রাস্তার বেহাল দশা হবে।’
এদিকে, কুলচারা গ্রামে রাস্তার কাজ এলাকাবাসীর বন্ধ করার সংবাদ পাওয়ার পর সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ‘পাথর মেশানোর কাজ চলছে। প্রায় অর্ধেক অর্ধেক বড় পাথর ও ছোট পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব বলেন, ‘কাজ আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। আপনি কি কাজ করা দেখছেন? তখন গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ চলমান জানালালে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব বলেন, ‘আমি অনেক আগেই ঠিকাদারকে মুঠোফোনে কাজ বন্ধ করতে বলেছে। ১০ শতাংশ বড় পাথর প্রকল্প অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বেশি না। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগে কাজ বন্ধ করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু কেন চলছে, জানিনা।’
এদিকে, কুলচারা এলাকাবাসী ওই কাজ বন্ধ করে সঠিক নিয়মে কাজ করার দাবি জানিয়েছেন।