দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বর্ণালংকার খুইয়েছেন মনোয়ারা খাতুন (৬৫)নামের এক হত-দরিদ্র বিধবা বৃদ্ধা। ওই বিধবা বৃদ্ধাকে ভাতার কার্ড করিয়ে দেয়ার কথা বলে কৌশলে প্রতারক চক্রের নারী সদস্য স্বর্ণের কানের দুল হাতিয়ে নেয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনাটি ঘটেছেন। অসহায় বৃদ্ধা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত জিন্নাত আলীর স্ত্রী।
ভুক্তভোগী মনোয়ারা খাতুন বলেন, হাসপাতাল থেকে ওষুধ নেয়ার জন্য টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করি। এসময় একজন বোরখা পরিহিত নারী আমার শরীরে হাত বোলায়। এসময় সে আমাকে ‘মা’ বলে ডাকেন এবং আমি বয়স্ক ভাতা পাই কিনা জানতে চাই। আমি বয়স্ক ভাতা পাইনা জানালে মেয়েটি আমার সাথে বয়স্ক ভাতার বিষয়ে কথা বলতে একান্তে কথা বলার জন্য একটু দুরে সরিয়ে নিয়ে আসেন। এসময় সে আমার কানে থাকা দুলের বিষয়ে বলেন- ওটা কি সোনার? আমি আমার কানে থাকা দুলটি সোনার জানালে ওই প্রতারক নারী বলেন সোনার দুল দেখলে তোমার ভাতা দেবে না। তুমি ওটা খুলে রাখো। এক পর্যায়ে সে আমার কানে থাকা দুলটি খুলে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে কৌশলে আমাকে ভাতার কার্ড পাইয়ে দেয়ার কথা বলে হাসপাতাল থেকে উপজেলা পরিষদের গেটে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তার ইমিটেশনের এক জোঁড়া কানের দুল কাগজে মুড়িয়ে আমার হাতে দিয়ে বলে তুমি এখানে থাকো, আমি অফিস থেকে আসছি বলে সটকে পড়েন। পরবর্তী বেশ কিছু সময় অপেক্ষার পরে প্রতারক ওই নারী না ফিরলে আমি কান্নাকাটি করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এসময় আবু তালহা নামের এক শিক্ষার্থী জানান, প্রতারক মহিলাকে চিনতে পারে কিনা দেখার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন, তবে তাকে আর পাওয়া যায়নি!
এ ঘটনার বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা বলেন, এ বিষয়ে কোন রোগী বা ভুক্তভোগী এখনো পর্যন্ত তার নিকট কোন অভিযোগ করিনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।