শমসের আলী, দামুড়হুদা:
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস ও ঐতিহ্য লিখে শেষ করা যাবে না। ভারত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর হরিরামপুরে অবস্থিত অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরা ডিসি ইকোপার্ক যেন- হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণ পিপাসু ও পর্যটকদের। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে দলবেঁধে আসছে ভ্রমণ পিপাসুরা। মন মাতানো নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য ভ্রমণ পিপাসুদের হৃদয়ে দোলা দেয়।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২শে জুন ততকালীন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) দেলোয়ার হোসেনের হাত ধরে ডিসি ইকোপার্কের সূচনা ঘটে। তার পর একাধিক জেলা প্রশাসক নিজ নিজ দ্বায়িত্বে ডিসি ইকোপার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেন। দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থান গুলো কাতারে নাম লেখায় নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর পরিবেশের ডিসি ইকোপার্ক।
দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর হরিরামপুরে অবস্থিত ডিসি ইকোপার্কের পুরাতন ইতিহাস:
প্রায় শতবর্ষ পূর্বে ভারতের নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নফর চন্দ্রপাল চৌধুরী দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরের বৃহৎ এলাকাজুড়ে বিভিন্ন ফলের গাছের সমন্বয়ে একটি বাগান তৈরী করেন। বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রবেশ পথের দুইপাশে সারিবদ্ধ ভাবে শতশত তালগাছ রোপণ করেন। এখন যেটা তালসারি নামে পরিচিত। এই পথ ধরেই ডিসি ইকোপার্কে প্রবেশ করতে হয়। জমিদার নফর চন্দ্র পাল চৌধুরী ১৯৪০ সালে পরলোকগমন করেন। পরে তার দুই ছেলে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাগানটি সরকারের মালিকানায় চলে আসে। বহু বছর ধরে পরিচর্যার অভাবে বাগানটি আস্তে আস্তে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ে এবং ঘন জঙ্গল সৃষ্টি হয়। ২০১৩ সালে দামুড়হুদা উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী অফিসার ফরিদুর রহমান যোগদানের পর বাগান ও জলাশয়কে নতুনভাবে সাজিয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সরকারি আয় বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। এরপর বাগানটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এখানে শত শত প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ এবং ওষধি গাছ রোপন করেন। তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সাল থেকে আমবাগান বটতলের বিল জুড়ে একটি ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যেগ নেয়া হয়। তখনকার জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাসাইন ২০১৫ সালে ২২ জুন পার্কটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ইকোপার্কটি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যা উপজেলাকে আকর্ষণ ও সম্মান বৃদ্ধি করছে।
সৌন্দর্যের লীলাভূমি আজকের ডিসি ইকোপার্কে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটছে। পার্কটি পিকনিক স্পট হিসেবে বেশী পরিচিতি লাভ করেছে। সবুজের বিস্তারের মাঝে রয়েছে রংবেরঙের বাহারি ফুল। বিনোদনের ব্যবস্থাটিও সুন্দর। এখানে বনভোজনের জন্য রয়েছে অনেকগুলি স্পট। নদীর পাড়ে রয়েছে বিশ্রামাগার। ছুটির দিনে প্রকৃতির প্রেমে ডানা মেলে এখানে অনেকে চলে আসেন। নিঝুম রাতে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঢলে পড়ে বটতলের বুকে।
ডিসি ইকোপার্কে বৃক্ষ রোপণ করে পরিবেশ ও বন অধিদপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা মিতা বলেন, শিবনগরের ডিসি ইকোপার্কে রয়েছে ফুল ও ফলের বাগান, শিশু উদ্যান, দোলনা, ফোয়ারা, প্যাডেল বোট ইত্যাদি নানান মজার আয়োজন। বিলের তীরে অবস্থিত পার্ক থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো। এখানে না আসলে বোঝা যাবে না এর সৌন্দর্য্য কত। বিলের ধারে পিকনিকের জন্য দারুন একটি স্পট। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমাদের ডিসি ইকোপার্ক।