ইমতিয়াজ রয়েল, দর্শনা:
মতিয়ার রহমান শুধু একটি নাম নয়। দর্শনার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গণে জড়িয়ে আছে যে নাম। সেই ছাত্রজীবন থেকে তিনি রাজপথে। তখন থেকেই মূলত জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী রাজনীতির সাথে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে হয়ে ওঠেন বাস্তবমুখী। ছিলেন সমান সার্বজনীন। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দৈনিক আকাশ খবর তুলে এনেছে তার সংক্ষিপ্ত জীবনী।
মোঃ মতিয়ার রহমান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম শামসুল ইসলাম (সাবেক চেয়ারম্যান) ও মরহুমা মমতাজ বেগমের বড় ছেলে। তিনি বর্তমানে ইসলাম বাজারে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।
রাজনৈতিক জীবনী:
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণকারী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহন করায় অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হয় তিনি। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দর্শনা সরকারী কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে আওয়ামী যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রাম করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে কারা অন্তরীণ থাকা অবস্থায় বিশাল সম্মেলনের মাধ্যমে দর্শনা পৌর যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। সবশেষ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দর্শনা পৌর শাখার সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
জনপ্রতিনিধিত্ব:
১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৫ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হয়। ২০১০ সালে ৩য় বারে পৌর নির্বাচনে মাত্র ১৯২ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০২১ সালের পৌর নির্বাচনে চতুর্থ বারের মতো আবারও মেয়র নির্বাচিত হন এ রাজনৈতিক।
রাজনৈতিক নির্যাতন:
১৯৯৩ সালে জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয় তিনি। ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে একটি হত্যা মামলায় আসামী করে কারাগারে অন্ত্যরীণ করা হয়।
দীর্ঘ ৩ বছর কারাবাসের পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান এবং ২০১৫ সালে মামলাটির চূড়ান্ত নিস্পত্তির মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হন তিনি। ১/১১ এর সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে গ্রেফতার করে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ৩ মাস কারাবাসের পরে মুক্ত হয়ে ভারতে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে মোটামুটি সুস্থ হয় তিনি। তাঁর এই স্বল্পজীবনে রাজনৈতিক হিংস্রতাসহ এই জনপদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসীদের নানাপ্রকার হুমকি ধামকি তোয়াক্কা না করে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী সমর্থকদের রক্ষা করতে জীবন বাজি রেখে সর্বদাই কাজ করে গেছেন তিনি।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা:
সভাপতি, দর্শনা পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটি
আহ্বায়ক, দর্শনা উন্নয়ন পরিষদ।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, দর্শনা।
উপদেষ্টা, প্রেসক্লাব দর্শনা।
উপদেষ্টা, সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, দর্শনা।
উপদেষ্টা, ভৈরবী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, দর্শনা।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, লালন একাডেমী, দর্শনা।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।
পিতা মরহুম শামসুল ইসলামের রাজনৈতিক কর্মকান্ড:
মরহুম শামসুল ইসলাম পাকিস্তান আমল থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যূত্থানের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, ১৯৭০-এর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে এলাকায় প্রথম কাতারের সংগঠক ছিলেন। মুজিবনগর সরকার গঠনের সময় উপস্থিত থেকে ইতিহাসের একজন স্বাক্ষী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের পর স্বৈরশাসক কর্তৃক বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হলেও তৎকালীন দর্শনাসহ এই এলাকায় আওয়ামীলীগের কান্ডারি তিনিই ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর কালে তিনি দর্শনা ইউনিয়ন পরিষদের একটানা ১৩ বছর নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দর্শনা ইউনিয়ন পরিষদ ১৯৯১ সালে পৌরসভায় উন্নীত হয়। ১৯৯৩ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা দর্শনায় এক বিশাল জনসভায় তাকে পৌরসভার দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জনগণের সামনে পরিচয় করে দেন। শেষজীবনে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও তিনি স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।