শেখ লিটন:
এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত বেড়েছে। বৃষ্টিতে জেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কখনো কখনো বৃর্ষ্টির সাথে ঝড় বয়ে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে কৃষি ফসলের। বৃর্ষ্টির কারণে নিম্নআয়ের মানুষদের উপার্জন কমে গেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়েছে। বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হচ্ছে, বৃষ্টিপাত আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলছিলেন, গত বছর বর্ষা মৌসুমে কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত ছিল না। ২০২৪ সালের পুরো জুলাই মাসজুড়ে বৃষ্টিপাত হয়েছিল মাত্র ৮৫ মিলিমিটার। এ বছর তা প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে গেছে। এ বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই এই একমাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪১৭ মিলিমিটার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত বেড়েছে জুলাইয়ের শেষের দিকে এসে। গত ২৪ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরেছে প্রতিদিন। এই আট দিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১২১ মিলিমিটার। ১ ও ২ অগাস্ট মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক আফতার উদ্দিন বলছিলেন, চলতি বছরের জুলাই মাসে বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঝড়ও হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে পানবরজ, পেপেবাগানসহ অন্যান্য কৃষি ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে ধ্বসে পড়েছে পেপেবাগান। নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে গেছে। বর্ষার অনেক রাস্তারও ক্ষতি হয়েছে।
একই গ্রামের ভ্যানচালক ইদ্রিস আলী বলেন, আকাশে মেঘ দেখলে কেউ খোলা ভ্যানে ওঠেন না। সারাদিনই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। আমাদের আয়-উপার্জন হয়নি।
অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যেও। বৃষ্টির কারণে মালামাল বহণ করতে বেশি গাড়িভাড়া গুনতে হয়েছে। কাঁচাঝালসহ সব ধরণের সবজির দাম বেড়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নাজিমউদ্দিন বলেন, কিছু কিছু সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছে চলে গেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। পটল কিছুদিন আগেও ছিল ২০ টাকা কেজি। তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি অগাস্ট মাসে বেশ কিছুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে, আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে।