তানজীর ফয়সাল, দামুড়হুদা:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে চিৎলা গ্রাম নামক স্থানে অবস্থিত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এক সময়ের ৩১ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এখন ৫০ শষ্যায় উন্নীত হলেও উন্নত হয়নি সেবার মানে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। ৩১ শয্যার জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে কোন মতে ঝিমিয়ে চালানো হচ্ছে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। হাসপাতালের কয়েকটি আবাসিক কোয়াটার ডরমেটরি হিসাবে ব্যবহার হলেও বাকি তিনটি কোয়ার্টার জরাজীর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বসবাসসের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় কোয়ার্টার তিনটা পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে পরিত্যক্ত কোয়াটারগুলো এখন মাদকের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। তবে এর আগে জরাজীর্ণ কোয়ার্টার গুলো লাখ লাখ টাকা খরচ করে মেরামত করা হয়েছিল, তবে তা পড়ে থাকায় আবারও নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে হাসপাতাল চত্বরে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট ভবন, ডাইডস ডর্মেটরি ও নার্সিং কোয়ার্টার নির্মিত হয়। ২০১৫ সালের ৭ জুলাই তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হাসানুজ্জামান নূপুরের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন উদ্বোধন করা না হলে ও পুরাতন ভবনে ৩১ শষ্যা ও নতুন ভবনে ১৯ শয্যা মিলিয়ে প্রশাসনিক ভাবে ৫০ শয্যা চালু করা হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ কোন জনবল বাড়ানো হয়নি অবহেলিত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে। ৩১শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০জন চিকিৎসক থাকার কথা। তবে ১০ জনের মধ্যে ৩ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য এবং ২ জন ডেপুটেশনে, একজন চুয়াডাঙ্গা সদর হাতপালে ও একজন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ঢাকায় অবস্থান করছেন। হাসপাতালে আছে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে থেকে মাস শেষে শুধু বেতন গ্রহণের জন্য পা রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। অন্যদিকে হাসপাতালে বর্হিবিভাগে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ শত ও আন্ত: বিভাগে ২৫-৩০ জন ভর্তি হচ্ছে। ৫০ শয্যায় যেখানে ১৪জন চিকিৎসক প্রয়োজন সেখানে ৫জন চিকিৎসক এতো রোগীর চাপ সামলিয়ে চিকিৎসা দিতে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বর্তমান কর্মরতরা। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি ৫০ শষ্যার চিকিৎসা সরঞ্জামাদিসহ ঔষধও। ফলে সাধারণ দুস্থ্য রোগীরা পাচ্ছেনা প্রয়োজন মত ওষুধপথ্য সহ প্রকৃতি সেবার মান। এলাকার সচেতন মহল হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধসহ চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছেন, আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখক চিকিৎসক, চিকিৎসা সামগ্রীসহ ঔষধ বরাদ্ধ পাওয়া যাবে।