শেখ লিটন:
মৌসুম শেষ হওয়ায় কমছে সবজির সরবরাহ। ফলে চুয়াডাঙ্গার বাজারে দাম চড়ছে সব ধরনের সবজির। এর মধ্যে সবথেকে বেশি দাম বেড়েছে বেগুন পটল ও করলার। অপরদিকে, দাম কমেনি আমিষের বাজারে। গরু-খাসির মাংস এবং সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি। তবে বাজারে সংকট কেটেছে সয়াবিন তেলের। এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে লিটারের ভোজ্যতেল। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গার নিচের বাজারসহ অন্যান্য সব বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গার বাজারে দাম বেড়েছে সব প্রকার সবজির। সরবরাহ কম থাকায় কেজিতে সব ধরনের সবজিতে ২০ টাকা বাড়তি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এক কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা। পটলের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা। আর প্রতি পিসে ১০ টাকা বেড়ে লাউ ৪০ টাকা। এছাড়া সব ধরনের সবজি ৫০ টাকার উপরে দাম ছুঁয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্থি বিরাজ করছে। তবে রোজার আগে থেকে দামে স্বস্থি রয়েছে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও আদা-রসুনের দামে।
একই ভাবে দাম কমেনি আমিষের বাজারে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এক কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২২০ টাকা। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগির দাম উঠেছে ৩০০ টাকায়। আর আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে লেয়ার ও দেশি মুরগি। রমজানের প্রথম দিন থেকে কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা। কিন্তু মূল্যতালিকায় লেখা রয়েছে ১ হাজার টাকা কেজি। এখানে ক্রেতাদের সাথে নয়ছয় খেলা করছে মাংস ব্যবসায়িরা। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৩০ বেড়ে ৭৫০ টাকা। আর আমদামি কম থাকায় কেজিতে ২০ টাকা সব ধরনের ছোট ও বড় মাছের দাম। তবে আগের মতোই দাম ওঠানামা করছে সব ধরনের মুদি নিত্যপণ্যে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাজারে সংকট কেটেছে ভোজ্য তেলের। এখন এক ও দুই লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। আর রমজানের শুরু থেকেই আগের মতোই কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে ছোলা, বেশম ও চিনির দাম। বাজারে এমন খাদ্য পণ্যের দাম বাড়াতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
বাজারে আসা এক ক্রেতা বিপ্লব হোসেন বলেন, রোজার মাস। আগেও আর এখন আমিষের বাজারে দাম বেশি চলছে। আবার গরু ও খাসির মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে। ঈদের আগে দামটা স্বাভাবিক হলে ভালো হতো। তেলের সংকট কেটেছে। কিন্তু তেলের দাম নাগালের মধ্যে আসেনি।
আরেক ক্রেতা আকিমুল হোসেন বলেন, সবজির দাম বাড়তে থাকলে তো নিম্ন আয়ের মানুষেন অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। বাজারের কোন ব্যবসায়ি পণ্যের দামের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করে না। বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাই বাজার মনিটরিং নিয়মিত দরকার বলে মনে করি।
এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, রমজান মাসে বাজারে জিনিসের ওঠানামা করে। তবে অন্যান্যবারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সবকিছুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বাজার স্বাভাবিক রাখার জন্য বাজার মনিটরিং চলছে।