দর্শনা অফিস:
আখেরী হুইসেল বাজিয়ে শেষ হয়েছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ২০২৪-২৫ আখ মাড়াই মৌসুম। গত শুক্রবার দিনগত রাত ৩টায় দর্শনা কেরুজ চিনিকলের আঁখ মাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়।
কেরু চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ আখ মাড়াই মৌসুমে ৬৫ কার্যদিবসে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ৫শতাংশ চিনি আহরণের হার ধরে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। এবছর প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৫০ টন আখ মাড়াই করেছে চিনিকলটি। এ মৌসুমে আখ থেকে চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ। এ বছর এ অঞ্চলের ৬ হাজার একর জমির মাড়াইযোগ্য আখ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে কেরু চিনিকলের নিজস্ব জমি থেকে ২৭ হাজার মেট্রিক টন আখ ছিল। বাকি ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আখ মিল থেকে নেয়া হয় এবং সাধারণ কৃষকদের জমি থেকে নেয়া হয়।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ১২কোটি ৮৫ লাখ টাকা চিনি উৎপাদন হবে আসা করছেন কেরু চিনিকল কর্তৃপক্ষ। গত বছরের চেয়ে ১৬ হাজার টন আঁখ বেশি মাড়াই করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যার মূল্য ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে কেরুর নিজস্ব জমিতে আঁখ ছিলো ১৫শ ১৬ একর। বাকী আঁখ বিভিন্ন মিল এবং এ অঞ্চলের কৃষকদের জমি থেকো পওয়া যায়। ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমেস লক্ষমাত্রা ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদন ২৫শ ৮৭ মেট্রিক টন। সে ক্ষেত্রে অর্জিত হয়েছে ৭২ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন আঁখ। চিনি উৎপাদন হয়েছে ৩৬শ ১৫ মেট্রিক টন। চিনির মৃল্য ৪৫ কোটি ১৮ লক্ষ টকা, চিনির আহরনের গড় হার ছিল ৫শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ বছরের চিনি উৎপাদন ২৫শ ৮৭ মেট্রিক টন।
উল্লেখ্য, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনি উৎপাদন করে আসছে। এ অঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসাবে জেলাকে আলোকিত করেছে। তবে চিনি ছাড়াও এই মদ, ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জৈব সার, চিটাগুড়সহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটি চিনি উৎপাদন কারখানা, ডিস্টিলারি, জৈব সার কারখানা রয়েছে। যা দেশের অন্য কোন মিলে নেই।