শেখ লিটন:
চুয়াডাঙ্গায় রমজান মাস উপলক্ষে দাম বেড়েছে সব ধরনের ফলের। প্রায় সব প্রকার ফল কেজিতে ২০-৩০ টাকা বাড়তি। উল্লেখযোগ্য হারে দাম বেড়েছে আপেল, কমলা, আঙ্গুর, বেদেনা, কলা ও তরমুজের। আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির কারণ- বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, বন্দরে আমদানি-রপ্তানী কম হওয়ায় ভারতসহ অন্যান্য দেশে থেকে বাংলাদেশে ফলের সরবরাহ অনেকটাই কমেছে। গেল কয়েকদিন ধরে নতুন চালানের ফল বাজারে ওঠেনি। আগের আমদানি করা মজুদকৃত ফল দিয়ে বিকিকিনি চলছে।
এর মধ্যে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ভারতীয় আঙ্গুরের দাম ৩৫০ টাকা। চায়না কমলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকা। ভারতীয় কমলা ৩২০ টাকা কেজি। ভারত থেকে আমদানিকৃত ফল বেদেনার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা। এক কেজি বেদেনা এখন বাজারে ৫৫০ টাকা। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিদেশি আপেল ৩৫০ টাকা। মাল্টা কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্য ৩২০ টাকা।
অপরদিকে রমজানের শুরু থেকে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় ফল তরমুজ। বড় সাইজের তরমুজ ৪০০ টাকা আর ছোট সাইজের তরমুজ ৩০০ টাকা হাকাচ্ছেন বিক্রেতারা। হালিতে ৪ টাকা বেড়ে এক হালি কলা এখন ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে পেয়ারা ও আনারসের দাম।
রোজার মাসে ফলের এমন অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতিতে নাজেহাল ক্রেতা সাধারন। প্রতি বছর যেমন হারে বাড়ে ফলের দাম, এবারও তার কম নয়। এজন্য প্রশাসনকে বাজার মনিটরিং বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
ফল কিনতে আসা রাজিবুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজানের শুরু থেকে বাজারে ফলের দাম বৃদ্ধি। এক কেজি আঙ্গুর কিনলাম ৫০ টাকা বেশি দিয়ে। রমজান মাস আসলে বাজার দ্বিগুণ হয়ে যায়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ইফতারি তালিকায় ফল খাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠবে।
ফল বিক্রেতা শাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ডার বন্ধ তাই ফল আসছে না। আড়তদার মালিকরা ফলের দাম একেক সময় একেক দাম নিচ্ছে। ক্রেতাদের কাছে ফল বিক্রি করতে যেয়ে আমাদেরও অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। ফলের দাম বাড়ার পিছনের কারণ আড়তদাররদের কারসাজি।
এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবর বলেন, বিভিন্ন ফলের দাম বেশি হয়, কারণ ভ্যাট ও ট্যাক্স বেশি। ফলের দাম স্বাভাবিক রাখতে হলে বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে প্রশাসনের। রমজানে ফল কৃত্রিম সংকট কাজে না লাগায় সে ব্যাপারে প্রশাসনের নজর রাখতে হবে।