নিজস্ব প্রতিবেদক:
মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার জেরে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের পলাশপাড়ায় বাবা দোদুল হোসেন ওরফে রিন্টুকে (৫৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে কেএএম রিফাত। গতকাল শনিবার রাত পৌঁনে ৮টার দিকে পলাশপাড়ার বুদু মিয়ার আমবাগান এলাকার নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছেলে কেএএম রিফাতকে (১৭) আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

ছেলের হাতে বাবা খুন, নিহত পিতা দোদুল হোসেন ওরফে রিন্টুর ফাইল ছবি: আকাশ খবর
নিহত দোদুল হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পলাশপাড়ার মৃত কাজী নূর মোস্তফার ছেলে। তিনি ইতালি প্রবাসী ছিলেন। বর্তমানে মৌসুমী ভূষিমাল ব্যবসা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ছেলেকে মোবাইল ফোনে গেম খেলতে করতো বাবা। গতকাল শনিবার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় বাবা দোদুল হোসের রিন্টু। এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয় দশম শ্রেণীর মাদ্রাসাছাত্র ছেলে রিফাত। রাত পৌঁনে ৮টার দিকে এশার নামাজে দাঁড়ালে পেছন দিক থেকে নামাজরত অবস্থায় বাবা দোদুল হোসেনকে থেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রিফাত। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরী কোপে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েন দোদুল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় দোদুলকে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান তিনি।

ঘাতক ছেলে কেএএম রিফাত: ছবি আকাশ খবর
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেক জুনায়েদ বলেন, নিহতের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই সে নিস্তেজ ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছেলে রিফাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদহে হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত মামলা রুজু হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দোদুল হোসেন রিন্টু ইতালি প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালে পলাশপড়ার বাড়িটি কেনেন তিনি। বেশ কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফিরে ভূষিমালের ব্যবসা শুরু করেন। মৌসুমি পণ্য বেচাকেনার ব্যবসা করলেও দিনের বেশিরভাগ সময় পরিবারের সাথেই কাটাতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে রিফাত ছোট সন্তান। অভিযুক্ত রিফাত দৌলতদিয়াড়ের ফজলুল উলুম ক্যাডেট স্কীম মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র।