নিজস্ব প্রতিবেদেকঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠে সোনালী ধানের শীষ দুলছে। বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে লেগেছে খুশির রোল। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ধান কাটা থেকে ঘরে তোলা সবই চলছে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে। হাতে কাটা নয়, এখন কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন দিয়েই ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলা হচ্ছে। এতে খরচ কমছে, সময়ও বাঁচছে।
চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ওজনে নুয়ে পড়া ধানের শীষ কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। উঁচু জমির ধান কাটা শুরু হলেও নিচু জমির ধান পুরোপুরি কাটতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে সব জায়গাতেই এখন ধান কাটার দৃশ্য যেন এক উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে। এবার আউশ ধানের ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় শীষ হয়েছে হৃষ্টপুষ্ট, ফলে কৃষকেরা পাচ্ছেন কাঙ্খিত উৎপাদন।
কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে আউশ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সেখানে ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ। আর খরচ কমাতে কম্বাইন হার্বেস্টার বড় ভূমিকা রাখছে। মাত্র ২ হাজার টাকায় এক বিঘা জমির ধান কেটে, মাড়াই করে ঘরে তোলা হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের সময়ে এই প্রযুক্তি কৃষকদের স্বস্তি দিয়েছে। এবার ধানের বাজার দরও ভালো। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৩২ হেক্টরে। জেলার মাঠে বর্তমানে ৭৫টি কম্বাইন হার্ভেস্টার কাজ করছে। এছাড়া অন্য জেলা থেকে আনা আরও ২০-২৫টি মেশিন যুক্ত হয়েছে ধান কাটার কর্মযজ্ঞে।
চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়া গ্রামের কৃষক হাসমত আলী বলেন, আগে ধান কাটতে প্রচুর খরচ ও সময় লাগত। এবার মেশিনে সব কাজ হয়ে যাচ্ছে। ধানও ভালো হয়েছে, দামও ভালো। ফলে আমরা কৃষকরা বেশ খুশি।
একই এলাকার কৃষক রবিউল মুন্সি বলেন, বোরো ও আমনের মাঝের মৌসুমে জমি ফাঁকা থাকত। এবার আউশ ধান চাষ করে লাভবান হয়েছি। আমার ফসল দেখে অন্য কৃষকরা আউশে ঝুঁকছে। ধানের দাম ও ফলন ভালো থাকায় আগ্রহ আরও বাড়বে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এবার উচ্চফলনশীল জাতের আউশ ধান আবাদ হয়েছে। ফলনও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। কৃষকেরা খুশি। মেশিন ব্যবহারের কারণে খরচও কমছে। আগামীতেও আউশের আবাদ আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।