নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিত্যপণ্যের দামের সাথে পাল্লা দিচ্ছে চালের বাজার। সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গায় চালের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। সব ধরনের চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি। ফলে চালের দামে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। ভারত থেকে আমদানি নেই কোন প্রকার চাল। ঘাটতি নেই চালের বাজারে। তবুও যেন চালের দামে আগুন ছড়াচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার পাইকারি ও খুচরা চালের বাজারে গিয়ে এতথ্য জানা যায়।
জানাগেছে, গেল বোরো মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় জেলায় ধান উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন। বাজারে চালের সংকট নেই। তবে মিল মালিকদের দাবি ধানের দাম বেশি। তাই চাল উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। এজন্য বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ থাকলেও দাম বেশি। গেল কয়েকমাস ধরে নতুন সব প্রকার চাল আমদানি বন্ধ করেছে ভারত। ফলে দেশের উৎপাদিত ধানের চালের চাহিদা মিটাতে হচ্ছে। যে কারণে চালের দামে বাজারে আগুন ছড়াচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার চাল পট্টি ও খুচরা বাজার ঘুরে জানগেছে, মধ্যবিত্ত্বদের চাহিদার মোটা চাল কেজিতে পাইকারী পর্যায়ে ২ টাক বেড়ে ৫৫ টাকা কেজি। এই চাল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকায়। আর মিনিকেট চাল পাইকারি বাজারে ২ টাকা বাড়তি হয়ে কেজিতে ৭৩ টাকা আর খুচরায় ৭৫ টাকা। উচ্চবিত্ত্বদের স্বাধের পছন্দের বাসমতি চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে পাইকারীতে ৮৬ টাকা খুচরায় ৮৮ টাকা বিক্রি করছে ব্যবসায়িরা। নিম্ন আয়ের মানুষের স্বর্ণা চাল পাইকারিতে ৫০ টাকা খুচরায় ৫২ টাকা। এখানে কেজিতে বাড়তি ২ টাকা গুনতে হচ্ছে নিম্ন বিত্ত¦দের। চালের বাজার অস্বাভাবিক হওয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অস্বস্তি প্রকাশ করা দেখা গেছে। তবে চালের দাম কমার সম্ভাবনা থাকছে চলতি মৌসুমের আউশ ধান উঠলে।
চাল কিনতে আসা ক্রেতা হাসিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে চালের দাম এতো বেশি যে কোন চাল কেনার কায়দা নেই। সবজির দামও আগুন। সেই সাথে চালের বাজার চড়া। আয়ের ছাড়া ব্যয় বেশি হয়ে যাচ্ছে। গতমাসে যে চাল কিনলাম ৫০ টাকা কেজি। সেই চাল ৫২ টাকা কেজি। এই ভাবে যদি চালের দাম বাড়তে থাকে তাহলে আমরা কিভাবে বাচঁবো। চালের ঘাটতি নেই তবুও চালের দাম বেশি। এই রকম চলতে থাকলে তো মরে যাব’।
এবিষয়ে কথা হলে চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চালের দাম আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হবে। ইতিমধ্যে নতুন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাজারে নতুন ধানের চাল আসলে আরো কমে যাবে দাম। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ চালের। যে কারণে চালের বাজার চড়া। তবে চিন্তার কিছু নেই চালের বাজার স্বাভাবিক হয়ে ফিরবে’।