দর্শনা অফিস:
অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে দর্শনা কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন আগামী ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান মুহম্মদ আব্দুছ ছাত্তার নির্বাচনী তফসীল ঘোষনা করেন। একইদিনে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র বিক্রি করা হয়। বেলা দেড়টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে মনোনয়ন ফমর দাখিল। বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাচাই ও প্রতিক নির্ধারণ এবং রাত ৯টা পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় দেয় নির্বাচন কমিটি। বিগত শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৫ জানুয়ারী-২০২৫ তারিখ সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচনে ১৬ ফেব্রুয়ারী-২০২৫ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করা হয়। এরপর একের পর এক কেরু চিনিকল এলাকায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তার প্রশ্নে কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী নেতা এবং কেরু কর্তৃপক্ষ নির্বাচন স্থগিত করেন। এরপর থেকে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ৭ই ফেব্রুয়ারি কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রার্থীরা পুনরায় কেরু কর্তৃপক্ষ ও আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের কাছে নির্বাচন চেয়ে ৩১জন স্বাক্ষরিত একটি পত্র দেন। পরে আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর গত ৪ মার্চ-২০২৫ তারিখ নির্বাচন করার জন্য অনুমতি প্রদান করেন এবং বিগত কমিটির ২ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবৈধ্য ঘোষনা করেন। নির্বাচন কমিটি আগামী ১৪ মার্চ-২০২৫ তারিখ পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা দেন।
এরপরও একটি পক্ষ বারবার নির্বাচন বাঞ্চাল করার জন্য নানা ধরণের হুমকি-ধামকিসহ বিভিন্ন ভাবে বাঁধা প্রদানসহ নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে নির্বাচন বারবার বাধাগ্রস্থ হয়। তবে এবার আগামী ১৪ মার্চ-২০২৫ তারিখ পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার ও নির্বাচন কমিটির সচিব আবু সাঈদ।
আগামী ১৪ মার্চ-২০২৫ তারিখের নির্বাচনে দুইজন সভাপতি পদে নির্বাচনে ১টি পদের অনুকূলে অংশ নিচ্ছেন তৈয়ব আলী (চাঁদ তারা) মার্কা ও ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ (হারিকেন) মার্কা, সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম প্রিন্স (গাড়ীর চাকা), জিল্লুর রহমান (বাই-সাইকেল), আব্দুল মান্নান (ছাতা), জয়নাল আবেদীন নফর (মই), হাফিজুর রহমান (চশমা), মার্কায় ভোটে অংশ নিচ্ছেন।
এছাড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন, সহ-সভাপতি পদে ২ টি পদের জন্য লড়াই করবেন এ এস এম কবির (মাছ), রেজাউল করিম (হাত পাখা), মফিজুল ইসলাম (চেয়ার) ও সাঈদ আহম্মদ কোদাল) মার্কায় ভোটে অংশ নিচ্ছেন। সহ-সাধারণ ২টি পদের জন্য ভোট যুদ্ধে অংশ নেবেন ৫জন প্রার্থী। এরা হলেন, আব্দুল কুদ্দুস (টেবিল), ইসরাফিল হোসেন-১ (গরুর গাড়ী), খবির উদ্দিন (কলস), বাবুল আক্তার (তালাচাবি) ও মোস্তাফিজুর রহমান (গোলাপ ফুল) মার্কায় ভোটে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক ১টি পদের লক্ষে ৩জন প্রার্থী ভোটে অংশ নিচ্ছেন, এরা হলেন আরিফুল ইসলাম (কাঁপ পিরিচ), মমিনুল ইসলাম (সিলিং ফ্যান) ও সেলিম খান (প্রজাপতি) মার্কা নিয়ে ভোট যুদ্ধে নামছেন।
দপ্তর সম্পাদক ১টি পদের জন্য দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, তারা হলেন, আতিয়ার রহমান (বই) ও সালাহ উদ্দিন (উড়োজাহাজ) মার্কা নিয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। প্রচার সম্পাদক ১টি পদের জন্য দুইজন প্রার্থী ভোট যুদ্ধ করবেন, তারা হলেন, মিজানুর রহমান (মোরগ) ও রবিউল ইসলাম (কুঁড়ে ঘর) এবং কোষাধ্যক্ষ ১টি পদের অনুকুলে দুইজ প্রার্থী আবু সাঈদ (কাঁঠাল) ও রেজানুর রহামন (ট্রাক) মার্কায় ভোট যুদ্ধ করবেন। এছাড়া ৭টি বিভাগের অনুকুলে ১৫টি সদস্য পদে ৩০ জন প্রার্থী ভোটে অংশ নিচ্ছেন। আগামী ১৪ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোটগ্রহন চলবে বলে জানান নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার।