নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, নির্বাচন উপলক্ষে এ জেলায় সংসদীয় আসন দুইটি। সংসদীয় আসন-৭৯ ও ৮০। এ আসন দুটিতে নির্বাচনী সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী দিনের কথা চিন্তা করে জেলার সব ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যাতে কোনো রকম নাশকতার স্বড়যন্ত্র না হয় এবং নির্বাচনী মালামাল গুলোতে যেন হামলা করতে না পারে ওই সকল দুষ্কৃতকারীরা। সেজন্য ইটভাটাগুলো আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে তেলের পাম্পগুলোতে জ¦ালানি তেল বিক্রি কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন নাশকতা না করতে পারে সেজন্য তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, নির্বাচনী স্টিকার সংক্রান্ত গাড়ি গুলো চলাচল করবে ভোটের দিনে। এর বাইরে কোন ধরনের পরিবহন বা অন্যান্য গাড়ি চলাচল করতে পারবে না নির্বাচনী এলাকায়। ভোটের দিনে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোটের ফলাফল আসতে থাকবে রিটার্নিং কার্যালয়ে। তখন থেকে ফলাফল যোগ করা হবে। তারপর ফাইনাল হওয়ার পর ভোটের পর দিন সকাল ১০টায় রিটার্নিং কার্যালয়ে থেকে ভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে । সেই মালামাল গুলো যথারীতি সুরক্ষিত আছে। এই মালামাল গুলো দিন রাত বিশেষ নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে পৌচ্ছায় যাবে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ৩৫৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন ২ থেকে ৩ জন পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন করে আনসার সদস্য। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোতায়েন থাকবে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দায়িত্ব পালন করবে ৭ প্লাটুন সেনাবাহিনী। এর পাশাপাশি চার প্লাটুন আনসার, চার প্লাটুন র্যাব ও ডিবি পুলিশের দল মাঠে থাকবে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় থাকবেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সবার সহযোগীতায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সেনবাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সবাই প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনের দিনে জাল ব্যালট বাক্সে ঢোকাতে না পারে, সেদিক কঠিন নজর থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা করে রাখবে। নিরাপত্তা নির্বিগ্নের সাথে ভোটারা সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পারে সেব্যাপারে আমাদের নজর থাকবে।’
চুয়াডাঙ্গার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তায় সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হবে।’