জীবননগর অফিস:
জীবননগরের হাসাদাহ ইউনিয়রে মাধবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাস্তার বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ আগস্ট জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুরে দীর্ঘদিন বিরোধের পর আদালতের রায়ে বাজার থেকে গ্রামের মধ্যে চলাচলের রাস্তাটি উন্মুক্ত হয়। তবে সেই রাস্তা আবার বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জীবননগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহ আলম বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালের ৩২ জানুয়ারি ৫৫৮ দাগের মাঝের রাস্তাসহ ৫৬৪ দাগের জমি কিনেছিলাম। এর মধ্যে ৫৮৮ দাগে ১০ ফুট চাওড়া এবং ১০০ ফুট লম্বা আর ৬৬৪ দাগে ৬ ফুট রাস্তা আছে। আমি ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫৬৪ দাগে দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলাম। এর একপর্যায়ে আব্দুল হান্নান আমাদের রাস্তায় চলার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় আমি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি। বিবাদী আব্দুল হান্নান আদালতে ওই রাস্তায় আর কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি এবং করবে না বলে আদালতকে বলেন। গত ২৩ আগস্ট আদালত এ মর্মে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয়।’
লিখিত বক্তব্যে শাহ আলম আরও বলেন, ‘তবে ৩০ আগস্ট স্থানয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিশ্বাস ও ইউপি সদস্য শ্যামল ষড়যন্ত্র করে আদালতের রায় অমান্য করে রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে দিয়ে না চলাচল করতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দোকান খুলতে পারছি না। এ কারণে দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না দিলে দোকানের ২০ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের জীবন ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হুমকির মধ্যে রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার ও বিচারের দাবি করছি।’
জানা গেছে, মাধবপুর বাজারের রুবেলের ফার্মেসি দোকান থেকে সরাসরি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শতাধিক পরিবারের লোকজন চলাচলের একমাত্র রাস্তা ছিল এটি। গত দেড় বছর আগে রাস্তার পাশে জমির মালিক আব্দুল হান্নান রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এবং রাস্তার ওপরে একটি কাদামাটি দিয়ে ইটের ছাউনি করে। এতে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পাড়া-মহল্লার লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়ে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা করা হয়। আদালত থেকে রাস্তাটি চলাচলের জন্য রায় ঘোষণার পর গ্রামবাসীর উদ্যোগে রাস্তার ওপরে ইটের খোয়া ও রাবিস দিয়ে চলাচলের উপযোগী করা হয়। তবে সেই রাস্তা আবার বন্ধ করার অভিযোগ উঠছে।