জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় আব্দুল মোমিন ফেলা (৪৫) নামে এক কৃষককে নিজের ঘরে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত উপজেলার বালিহুদা গ্রামের মৃত দিদার আলী মন্ডলের ছেলে। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মোমিন বালিহুদা গ্রামের বাসিন্দা ছিল। গত এক/দেড় মাস আগে হাসাদহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে চার শতক জমি ক্রয় করে কোন রকমে টিন দিয়ে ছাপড়া বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করত। তার স্ত্রী উলফা খাতুন ও ছেলে রাজু আহমেদ বালিহুদা গ্রামে বসবাস করেন। নিহতের স্ত্রী মাঝে মধ্যে মাধবপুর তার স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। তবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগে থেকে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। গত কিছুদিন যাবত নিহতের স্ত্রী ও ছেলে সাথে টাকা লেনদেনের বিষয় ঝামেলা হয়। ঝামেলাকে কেন্দ্র করে নিহত মোমিন গত ২/৩ দিন আগে তার বালিহুদার বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী মারধর করে আসলে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে নিহত মোমিন এবং তার ছেলে ও স্ত্রী মধ্যে মনদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পারিবারিক ঝামেলা মীমাংসার জন্য আজ (২৬ জুলাই) সকালে পরিবারের সকলে একসাথে বসাবসি করে মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। যার কারণে নিহতের ছেলে মাধবখালী গ্রামের আকিদুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাধবপুর গ্রামে তার পিতার বাড়িতে মীমাংসা করানোর জন্য আসতে বলে। কিছুক্ষণ পর আকিদুল মাধবপুর বাজারে এসে নিহতের ছেলেকে ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে আনুমানিক দুপুর ১.১৫ মিনিটের দিকে আকিদুল পুনরায় রাজুকে ফোন দিলে রাজু আকিদুল কে বলে যে, “ভাই আমার বাবা কি মারা গেছে?” তখন আকিদুল বলে “তুই কি তোর বাপকে মেরে ফেলেছিস”। এই কথা বলার সাথে সাথেই রাজু ফোন রেখে বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাজু’র একথা পর স্থানীয় লোকজন মোমিনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কে বা কারা গলা কেটে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের খবর দিলে লাশ উদ্ধার করেন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি জানানোর পর ঘটনাস্থাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি কার্যক্রম চলছে।কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি।