নিজস্ব প্রতিবেদক:
সবার সহযোগিতায় সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেন ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত গৃহবধূ বেনু খাতুন। এজন্য আগামী ৭ মাসে তার চিকিৎসা বাবদ প্রয়োজন ৪-৫ লাখ টাকা। এমন কথাই জানিয়েছেন চিকিৎসক। বেনু খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার টেইপুর গ্রামের দিনমুজুর কাউছার আলীর স্ত্রী।
জানা গেছে, মাস তিনেক আগে বেনু খাতুনের জ্বর হয়। এরপর গায়ে বের হয় চিকেনপক্স। চিকেন পক্স ভালো হলেও জ্বর আর ভালো হয় না। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিতে থাকে বেনু খাতুন। এরই মধ্যে পার হয়ে যায় এক মাস। মাস খানের পরে চুয়াডাঙ্গায় রাজশাহী থেকে আসা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল বাসেতের কাছে দেখানোর পর সেই চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ প্রদান করেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রাজশাহীতে পরীক্ষার-নিরীক্ষার পর বেনু খাতুনের শরীরে ধরা পড়ে মরণব্যাধী ক্যান্সার রোগ। ততক্ষনে বেনু খাতুনের সংসার থেকে খরচ হয়ে গেছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এ টাকার যোগান হয়েছে বাড়ির হাস, মুরগী আর ছাগল বিক্রি করে। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু ক্যামোথেরাপী দেওয়া। গত দুই মাসে এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় ক্যামোথেরাপী সহ অন্যান্য পরীক্ষা চলছে কোন রকমে। এখন আর চিকিৎসা খরচ বহন করতে পারছে না তার দিনমুজুর স্বামী কাউছার। একদিকে সংসারে তিন ছেলে মেয়ের খরচই টেনেটুনে কোনরকমে চলে তার উপরে ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করা অসাধ্য হয়ে উঠেছে।
সংসারে তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে কায়েস রহমান বয়স ১৭। নবম শ্রেনীতে পড়া লেখা করে। দ্বিতীয়টা কন্যা সন্তান। নাম লামিয়া। বয়স ৯ বছর। পড়া-লেখা করে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে। আর ৪ বছর বয়সী রিফাত নামের রয়েছে সবার ছোট ছেলে সন্তান। স্বামী দিন মুজুর। একদিন অন্যের জমিতে না গেলে সংসার চলে না। সেই সংসারে ক্যান্সার আক্রান্ত রুগি কিভাবে চিকিৎসা করাবে? ক্যান্সার আক্রান্ত বেনু খাতুন মাজার যন্ত্রানায় ছটফট করতে করতে এসব কথা বলছেন এ প্রতিবেদকের কাছে। তিনি জানান, শুরুতে তার শরীরে ক্যান্সারের জীবানু ছিল ৪৫ শতাংশ আর এখন ক্যামোথেরাপী দিয়ে দাড়িয়েছে ৫ শতাংশ। ক্যান্সারে আক্রান্ত আত্মবিশ্বাসী এই গৃহবধূ বলেন, চিকিৎসকরা বলেছে আগামী ৭ মাসে চিকিৎসা খরচ বাবদ লাগতে পারে আরো ৪-৫ লাখ টাকা। তাহলে হয়তো ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি।
প্রতিবেশীরা জানান, আশেপাশের গ্রামের মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চলছে বেনু খাতুনের। সবাই মিলে আরেকটু সহযোগিতার হাত বাড়ালেই হয়তো বেনু খাতুন সুস্থ্য হয়ে সন্তানদের মাঝে ফিরতে পারবে।
স্বামী কাউছার আলী বলেন, প্রতিদিন দিনমুজুর বাবদ ৫শ টাকা করে আয় করি। সেই টাকা দিয়ে তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসারের খরচ মিটাবো না স্ত্রীর ক্যান্সারের চিকিৎসা করাবো। এখন প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকার উপরে শুধু ক্যামোথেরাপী বাবদ খরচ হয়। এর বাইরেও রয়েছে অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এত টাকা খরচ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে আমার স্ত্রী সুস্থ্য হয়ে আবারো সংসারের হাল ধরতে পারবে। পরিবারের সাথে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৬৪-৫০৩৯৩০ কাউছার (স্বামী)।