আল-আমিন হোসেন, আলমডাঙ্গা:
অন্ধকারে নিমজ্জিত দেশের প্রথম দোতলা স্টেশন আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন। রাতে স্টেশনে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় বাড়ছে মাদকসেবীদের আনাগোনা সঙ্গে প্রায়ই ঘটছে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। মূল ভবনের সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় আতঙ্কে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের। দেশের ঐতিহাসিক স্টেশনে দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মে নেই যাত্রীছাউনি।বিশেষ করে মাঝ রাতে ঢাকাগামী ট্রেনে রওনা হওয়ার সময় নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রী সাধারণ। পকেটমার, ছিনতাই, মাদকাসক্তদের আনাগোনা বেড়েছে স্টেশনে। রেলস্টেশন থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে বাতি না জ্বলায় মাদকসেবিদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এ সড়কটি। যার ফলে স্টেশনে যাত্রীরা দিনে কোনমতে চলাচল করতে পারলেও রাতে আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করছেন। রাতে ঢাকাগামী ট্রেনে ওঠার সময় বিশ্রামাগার থেকে অপর প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সময় আলোর স্বল্পতা এবং অধিকাংশ বাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ট্রেনে উঠা-নামার সময় শংকিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহাসিক রেল স্টেশনটি কর্তৃপক্ষের সচেতনতা, অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন এর সুনাম নষ্ট হতে চলেছে, দেখার যেনো কেও নেই। এমনকি এ স্থাপত্যের মূল ভবনের জায়গায় জায়গায় পরগাছা জন্মেছে। সিঁড়ি ও দেয়ালের অবস্থায়ও বেহাল। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এবং পোড়াদহ স্টেশনের মধ্যকার দুরত্বে প্রতিদিন ৪/৫ টি মোবাইল ফোন এবং লক্ষধিক টাকা পকেটমারসহ ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা শুধু সাম্প্রতিক সময়ের নয়, বরং বছরের পর বছর নিয়মিত ঘটে আসছে।মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে যাতায়াত করেন।
ডা. কাউসার নামের এক যাত্রী বলেন, রাত সাড়ে বারোটার পরে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন আলমডাঙ্গায় পৌছায় কিন্তু এর আগে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকি । যে পাশ দিয়ে ট্রেনে উঠবো সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নাই। শুধুমাত্র টিকিট কাউন্টার এর আশ পাশ ব্যাতীত সব জায়গায় অন্ধকার কাজেই বাধ্য হয়ে বিশ্রামাগারে আছি। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম পার হওয়ার সময় আলোক স্বল্পতার কারণে অস্বস্তি বোধ করছি। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গার স্টেশন মাস্টার নাজমুল হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে বাতিগুলো মেরামত করা হয়েছে, আবার নতুন করে নষ্ট বাতিগুলো মেরামতের জন্য আবেদন করেছি। যেহেতু সরকারি কাজ একটু লেট হবে।
মানবাধিকার কর্মী মানোয়ার হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গা স্টেশনে বাতিগুলো মেরামত সহ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুবা জনগণের জান- মালসহ হাজার-হাজার টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিদিন। বর্তমান যুগে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িও এখন সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত অথচ এই ঐতিহাসিক রেল স্টেশনে প্রতিদিন শতশত মানুষ উঠানামা করেন। এটাকে যদি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে অনেকাংশে এই সমস্যার সমাধান হবে। দিনের পর দিন যাত্রীদের ভোগান্তির দায়ভার প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না বলেও জানান তিনি