দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার ছোটদুধপাতিলা গ্রামে আছরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রফিক মোল্লা (৬০) নামের স্থানীয় এক মুসুল্লিকে একই গ্রামের আনছার আলীর (৫২) লোকজন জোরপূর্বক ধরে এনে বেধড়ক মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর দুই ছেলে পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে আনসারের লোকজন তাদেরকেও এলো পাতাড়ি মারপিট করেছেন বলে জানা গেছে। তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মিনহাজ বুয়েটের শিক্ষার্থী। এসময় ক্ষুদ্ধ হয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে আনসার গং এর উপরে চড়াও হয়ে তার ঘরবাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানাগেছে।
গতকাল বুধবার ছোটদুধপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুধপাতিলা রেল লাইনের পাশ থেকে সরকারি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এই মারামারির ঘটনা ঘটেন। দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা গ্রামের রেল লাইনের পাশে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমির গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে ছোট দুধপাতিলা গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে আনছার আলি ও আনছার আলির ছেলে লোকমান আলি ও জামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে উপজেলা বন কর্মকর্তা সে গাছ ও গাছের ডালগুলো জব্দ করে বন বিভাগ কার্যালয়ে রাখেন। এ ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ তাদের নামে একটি মামলা রজু করেন। গাছ কাটার বিষয়ে অভিযুক্ত আনছার আলী সন্দেহ করে যে রফিক মোল্লা সহ তার লোকজন তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনসার আলীর লোকজন বুধবার বিকালে দুধপাতিলা গ্রামের মসজিদে আসরের নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন একই গ্রামের মৃত কাশেম উদ্দিনের ছেলে রফিক মোল্লা। তখন রফিক মোল্লাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আনছার ও তার লোকজন রফিক মোল্লাকে বেধড়ক মারপিট করেন। এসময় বৃদ্ধা রফিক মোল্লার দুই ছেলে মসলেম উদ্দিন ও ছোট ছেলে বুয়েটের শিক্ষার্থী মিনহাজ তার পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে আনসার আলীর লোকজন। স্থানীয় গ্রামবাসী আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রফিক মোল্লার অবস্থা আশংকাজনক বলেও জানা যায়। বিষয়টি লোক মুখে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী সকলে আনসার গংদের উপরে ক্ষুব্ধ হয়। তখন গ্রামবাসী আনসারের এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাড়িতে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আনসার ও তার দুই ছেলেসহ পরিবারের লোকজনকে মারধর করার ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। একপর্যায়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ূন কবির পুলিশের একটা টিম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উপস্থিত হলে গ্রামের অশান্ত পরিবেশ আস্তে আস্তে শান্ত হতে থাকেন।
এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, দু’পক্ষের মারামারির ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষের আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ কোন লিখত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।