নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘কৃষি শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎও গড়ে দেয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ‘গো গ্রিন’ কর্মসূচির আওতায় দুটি নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ৩ টায় দামুড়হুদার কোষাঘাটায় অবস্থিত গো-গ্রীন সেন্টারের মাঠ প্রাঙ্গনে এক অবহিতকরণ সভায় এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সভা করা হয়। সভায় সভাপত্বিত করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান।
টেকসই কৃষি নিশ্চিত করা না গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে, চুয়াডাঙ্গায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সভায় অংশগ্রহণ করানো হয় কৃষক, নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা ও কৃষি বিশেষজ্ঞ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প দুটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশসম্মত কৃষি চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার দিগন্ত খুলে দেবে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ফলের ভ্যালু চেইন উন্নয়ন ও অনুশীলন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এটি উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, একই সাথে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ করে জৈব সার ও উন্নত সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই কৃষির মডেল তৈরি করবে। প্রতিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি সম্প্রসারণকল্পে এগ্রোইকোলজিক্যাল লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। গবেষণা প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি নতুন প্রজন্মের কৃষি বিশেষজ্ঞ তৈরি করবে। কৃষকেরা এখান থেকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশসম্মত কৃষি ব্যবস্থাপনার কৌশল শিখতে পারবেন। যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষির আধুনিকায়ন শুধু কৃষকদের জীবনমান উন্নত করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা আরও লাভবান হতে পারবেন।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলার প্রাণী স¤পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) দেবাশীষ কুমার দাস ও জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক সজিবুল ইসলাম সজিব।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের সম্পাদক ও প্রকাশক আজাদ মালিতা, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবর, জেলা লোকমোর্চার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি ও দর্শনা থানা লোকমোর্চার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বুলেট প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্থার উপ-পরিচালক জহির রায়হান। প্রকল্পের বিস্তারিত ধারণা ব্যাখ্যা করেন সহকারী পরিচালক নির্মল দাস এবং ‘গো গ্রিন’ কর্মসূচির সামগ্রিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক নাজমা সুলতানা লিলি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার গো-গ্রীন সেন্টারের সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ।