নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঘরে ঘুমিয়ে ছিল একমাস বয়সী শিশুকন্যা তাবাসসুম। এর মধ্যে পুরো ঘরে আগুন লাগে, বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। এতে দগ্ধ হয় শিশুটি। শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে শিশু তাবাসসুম। গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদরের ৬২ আড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেয়ার পরমর্শ দিলেও অর্থাভাবে তাকে ঢাকায় নিতে পারেনি পরিবারের স্বজনরা।
পরিবারের লোকজন জানায়, শুক্রবার সকালে ৬২ আড়িয়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুস সালামের তৃতীয় শিশুকন্যা তাবাসসুম একা ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। বাইরে কাজ করছিল তার মা। এসময় ঘরের পাশে খড়ির গাদা থেকে আগুন লাগে। মুহুর্তেই বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। সেই আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হয় ঘুমন্ত অবুঝ শিশু তাবাসসুম। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয় প্রতিবেশী ও স্বজনরা। হাসপাতালে নেয়ার পরই তার শরীরের ক্ষত দেখে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসকরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অর্থাভাবে শিশুটিকে নিয়ে পরিবারের স্বজনরা এখনো হাসপাতলেই অবস্থান করছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট এহসানুল হক তন্ময় জানান, শিশুটির শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দ্রুতই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেয়া প্রয়োজন। এদিকে শিশুটির পিতা আব্দুস সালাম বলেন, দিনমজুরের কাজ করে কোনরকমে সংসার চলে। এই সময়ে ঢাকাতে নিতে টাকার প্রয়োজন। সেই টাকার যোগান না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে। শিশুর শরীরের যন্ত্রনা সইতে না পেরে বিভিন্ন মানুষের কাছে সহযোগীতা চেয়েছি।
একই গ্রামের বাসিন্দা শাহিন সরকার জানান, অতিদ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন শিশুটির। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব নয়। গ্রামের লোকজন সহায়তা করছে। তাও খুবই সামান্য। এজন্য সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।