দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদার লোকনাথপুরে নির্মানাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রিন্টু (৩০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লোকনাথপুর বাসট্যান্ড সংলগ্ন নব-নির্মিত একটি বিল্ডিংয়ের ছাদ ঢালায়ের কাজ করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। সেখান নিচে ছিটকে পড়লে রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রিন্টু লোকনাথপুর মাঝপাড়া গ্রামের মোসেক উদ্দিনের বড় ছেলে। গতকাল বাদ আসর লোকনাথপুর ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গনে নামাজে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তার দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।
সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্সী সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলাধীন হাউলী ইউনিয়নের লোকনাথপুর বাসষ্টান্ড সংলগ্ন জসিমের নির্মাণধীন বিল্ডিংয়ের ২য় তালার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিলেন। ঢালায় কাজ শুরু করার পূর্বেই ওই বিল্ডিংয়ের উপরে ১১ হাজার ভোল্টেজের একটি বৈদ্যুতিক লাইন ছিল। এসময় বিল্ডিংয়ে কাজ করার সময় অসাবধানতার বসে বৈদ্যুতিক লাইনের সাথে রিন্টুর হাতে থাকা লোহার রড স্পর্শ হলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বৈদ্যুতিক ঝটকায় রিন্টু নির্মাণাধীন ভবনের ২য় তলার ছাঁদ থেকে নিচে পড়লে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় তার মাথা ও নাক দিয়ে অনবরত রক্ত ঝরছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মূহুর্তের মধ্যে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসেন। সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত যুবক রিন্টু পিতার চার ছেলে মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছেলে ছিলেন। সাংসারিক জীবনে রিন্টু ছিলো বিবাহিত এবং তার সংসারে দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদ (১২) লোকনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে জাবির (০৯) একই মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির ছাত্র। রিন্টু রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।