দর্শনা অফিস:
আবারও আটকে গেলো দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন। গতকাল দুপর ২টার দিকে নির্বাচন কমিটিকে হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়ে এই নির্বাচন বন্ধের ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিটি।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিটি নির্বাচনের ৬টি আইন অমান্য করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করায় এক শ্রমিক রাশেদুল ইসলাম রাসেল রিট পিটিশন দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে মহমান্য হাইর্কোটের নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৭৩৭২/২০১১ এবং ৪৩১৬/২০১৪ এর ৮/০৭/২১৪ তারিখের নিদের্শনা মোতাবেক উদ্ভুত পরিস্থিতির সকল দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিটিকে নিতে হবে উল্লেখ করে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দেন। হাইকোর্টের পত্র পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় কেরু কোম্পানীর ব্যবস্থপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান ও কেরুজ নির্বাচন কমিটি শ্রমিক নেতাদের সাথে কেরুজ অতিথি ভবনে বসেন। সেখানে নির্বাচন স্থগিত ঘোষনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপর থেকেই নির্বাচন বন্ধকে কেন্দ্র করে একে অপরের দোষারপ করছে শ্রমিক নেতা ও সাধারণ ভোটাররা। গতকাল সন্ধ্যায় কেরুজ সূর্যসেনা সংগঠনের কার্যালয়ে সভাপতি প্রার্থী তৈয়ব আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম প্রিন্স শ্রমিক ও কর্মচারীদের উদ্যেশ্যে বলেন, নির্বাচন বন্ধের জন্য সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ দায়ী। মাসুদুর রহমান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে সৌমিক হাসান রূপম ভোটে অংশ নিতে চায়। ভোটের ঠিক আগে আগে সৌমিক হাসান রূপমকে কেরু মিল থেকে বদলী করা হয় পঞ্চগড় মিলে। এরজন্য দায়ী কে? কে কারা আমরা সব স্পষ্ট হয়ে গেছি। কেরু এলাকায় বোমা রাখা, রূপমের বদলী ও জেডিএলকে ভোট বন্ধের জন্য ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল কে? এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে ভোট বন্ধের নেপথ্যে কে কাজ করছে তা আর বুঝতে করো বাকি নেই।
এদিকে বর্তমান সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ বলেন, ২০১৩ সালে আমার পিতার চাকরী কেড়ে নিয়েছিলো ওই মনিরুল ইসলাম প্রিন্স। তারপর থেকেই প্রিন্স আজও সাধারণ সম্পাদক হতে পারেনি। ওই সময়ই তো ট্রেড ইউনিয়নকে ধ্বংস করেছে তারাই। আমি ট্রেড ইউনিয়নকে ভালোবাসি, আমি শ্রমিকদের ভালোবাসি। আমি দুই দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি। শ্রমিকরা আমাকে ভালোবাসে। আমার সাথে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আছে। রূপমকে বদলীর বিষয়ে ওরা ভালো জানে। আমি তো সাধারণ সম্পাদকের ভোট করছি না। আমি কেনো রূপমকে বদলী করতে যাবো। ২০১৯ সালে তৈয়ব আলী ভোট বন্ধ করেছিলো। আমি সর্বোচ্চ ভোটের মালিক, আমি চাই ভোট হোক। যাতে দ্রুত ভোট হয় সেই ব্যবস্থা করবো আমি। ওনারা যে কথাগুলো বলছে, এতে গোলযোগ সৃষ্টি হবে।
শ্রমিকদের মতে, একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারপে লিপ্ত না হয়ে দ্রুত ভোট দেয়া হোক। যে নির্বাচিত হবে সেই হবে আগামীর শ্রমিক নেতা। এজন্য ভেদাভেদ ভুলে নির্বাচনের আয়োজন করাই নেতার যোগ্য কাজ হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। একই কথা বলেছেন কেরুজ ব্যবস্থপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান।