নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, জরিমানা, ভাংচুর ও বন্ধের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ইট প্রস্তুতকারক মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় শহরের টাউন ফুটবল মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শেষ হয়। এরপর সেখানেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ইটভাটা মালিক-শ্রমিকরা। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। এদিকে, শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েতে শহরে যানজট দেখা দেয়।
সমাবেশে সাত দফা দাবি উত্থাপন বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইটভাটা মালিকগণ বিগত ৩৫-৪০ বছর ধরে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে ইটভাটার ব্যবসা পরিচালনা করছে। দেশের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ী সহ সকল অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত ইট সরবরাহ করে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রেখেছে। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সমতা রেখে ইটভাটার মালিকগণ বায়ুদূষণ রোধে সরকার নির্দেশিত আধুনিক প্রযুক্তির ‘জিগজ্যাগ’ ভাটা স্থাপন করা হয়। যা জ্বালানী সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ও উপমহাদেশে টেকসই এবং সহজ প্রযুক্তি হিসাবে পরিচিত। এই শিল্পে প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত আছে এবং ৫০ লক্ষ পরিবার তথা ২ কোটি মানুষের রুটি রোজীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে এই লোকগুলো বেকার হয়ে পড়বে। এছাড়াও প্রায় প্রতিটি ইভাটার বিপরীতে ১ কোটি টাকার উপরে ব্যাংক ঋণ, যা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা এই ভাটাসমূহ বন্ধ হয়ে গেলে সমূদয় ব্যাংক লোন অনাদায়ী থেকে যাবে। ইটভাটার মালিকগণ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব দিয়ে থাকেন।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জিগজ্যাগ ইটভাটার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। উপদেষ্টার মাধ্যমেই ইটভাটা পরিচালনার একটি যুক্তিক সমাধান চাই। বৈধ পদ্ধতির জিগজাগ ইটভাটায় জরিমানা ও ভাংচুর করা হয়েছে।
সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দাবি- ১. ২০১৩ সনের ইটভাটা নিয়ন্ত্রন আইনের জিগজাগ ভাটা বৈধ পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও উক্ত আইনের ৮(৩) (ঙ) এবং ৮ (৩) (খ) উপ-ধারায় “দূরত্ব নির্দিষ্ট” করনের কারণে দেশের কিছু জিগজাগ ইটভাটার মালিকগণ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর হাইব্রিড কিলন এবং ট্যানেল কিলন এর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ এলাকার দূরত্ব ১০০০ মিটারের পরিবর্তে ৪০০ মিটার নির্ধারণ করেছে সুতরাং আমাদের জিগজ্যাগ ভাটার জন্য উক্ত আইনের ৮ (৩) (ঙ) ধারায় নিষিদ্ধ এলাকার দুরত্ব ৪০০ মিটার এবং আইনের ৮ (৩) (খ) এ বনের দুরত্ব ৭০০ মিটার করে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিপত্র জারীর মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ প্রদানের আবেদন জানাচ্ছি। ২. জিগজাগ ইটভাটায় কোন প্রকার হয়রানী বা মোবাইল কোর্ট করা যাবে না। এটি করলে ভ্যাট টেক্স দেয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো। ৩. কোন ইটভাটা বন্ধ করতে হলে সরকারী ভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বন্ধ করতে হবে। ৪. মাটি কাটার জন্য ডিসির প্রত্যয়নপত্র নেয়ার বিধান বাতিল করতে হবে। ৫. পরিবেশগত ছাড়পত্র, ডি.সি লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স সহ অন্যান্য কাগজপত্রাদি ইস্যু/নবায়নের সময় কেন্দ্রীয় হট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির প্রত্যয়ন পত্র বাধ্যতামূলক ভাবে জমা দেয়ার বিধান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করছি। ৬. ইটভাটাকে শিল্প হিসাবে ঘোষণা দেয়ার দাবী করছি। ৭. ইটভাটা পরিচালনায় দীর্ঘ মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি খাজা নাসির উদ্দীন শান্তি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আকুল, ইট প্রস্তুতকারক শ্রমিক রাইহান উদ্দিন, জাকির হোসেন ও মোছা. অনি আক্তার প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন ইটভাটার মালিকরা।