আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় ফসলি জমির মাটি কাটায় এক্সেভেটর ড্রাইভারসহ ৪জনকে আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার যমুনার মাঠে ফসলি জমির মাটি কাটার সময় দুটি এক্সেভেটর জব্দসহ ৪জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জমির মালিকের ম্যানেজারকে এক লক্ষ ও দুই এক্সেভেটর ড্রাইভারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানাগেছে, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার হালসা এলাকার কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রশিদ আলমডাঙ্গা যমুনার মাঠে ৩৬ বিঘা কৃষি জমি ক্রয় করেন। সম্প্রতি ক্রয়কৃত জমির মাটি এক্সেভেটর দিয়ে কেটে বিক্রয় করছেন তিনি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ভূমি আশীষ কুমার বসু অভিযান পরিচালনা করে কৃষি জমিতে মাটি কাটার দুটি এক্সেভেটর ও চালকসহ ৪ জনকে আটক করেন। আটকৃতরা হলো-এক্সেভেটর ড্রাইভার পাবনার আকাশ ও কুষ্টিয়ার জাহাঙ্গীর, ফসলি জমির মালিকের ম্যানেজার বিনোদপুর গ্রামের ওমর আলী ও ডাউকি গ্রামের স্বপন আলী।
ম্যানেজার ওমর আলী জানান, জমির মুল মালিক প্রবাসী। তার শ্যালক কুষ্টিয়া ইবি থানার মাগুরা গ্রামের মহন আলী এ জমি দেখাশুনা করেন। মহনই এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটছেন। মহন জামজামি ইউনিয়নের হোগলারদাড়ি গ্রামের মন্টুর মাধ্যমে কুষ্টিয়া থেকে এক্সেভেটর ভাড়া করে নিয়ে আনেন। গতকাল সকালে অভিযান চালিয়ে ফসলি জমিতে মাটি কাটায় জমির মালিকের ম্যানেজার ওমর আলীকে ১ লাখ টাকা এবং এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটার অপরাধে দুই এক্সেভেটর ড্রাইভারকে ২৫ হাজার করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু জানান, জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ফেলার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। জমির উপরিভাগের মাটি একবার কেটে নিয়ে গেলে তা পূরণ হতে কয়েক বছর সময় লাগে। এ সকল মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।