নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচন বাতিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর এক স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক ও সদস্য সচিব সাফফাতুল ইসলাম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের চিনি ও ডিস্টিলারী শিল্পের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান কেরু এ্যান্ড কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচন আগামী ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এবং বাইরে নানা অনিয়ম, স্বৈরাচারী মানসিকতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে কেরুজ এলাকায় প্রায় ১০-১২টি বোমা পাওয়া যায়, যা নিরাপত্তাজনিত মারাত্মক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। গত ১৬ বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বৈরাচারী শাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। যারা স্বৈরাচারী সরকারকে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করেছে, কেরুর পণ্য চোরাচালানে জড়িত ছিল এবং প্রতিষ্ঠানে স্বৈরাচারী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভমিকা রেখেছে,তারাই আজ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর হামলা চালিয়েছে এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকর্তা জড়িত ছিল, তারাও এখনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের এমপিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যারা রাতের অন্ধকারে ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে সাহায্য করেছে,তারাও এ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে। এই পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা ক্ষুন্ন হয়েছে। কেরুজ এলাকায় বোমা উদ্ধারের ঘটনা শুধু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে ব্যাহত করছে না, বরং কর্মচারী, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অযৌক্তিক। কেরু এ্যান্ড কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচন বাতিল করে পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।
এ পত্রে নিবেদক হিসেবে দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন আরও ৭ নেতা। তারা হলেন, জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিক, আবিদ হাসান রিফাত, যুগ্ম সদস্য সচিব রেজাউল বাশার প্লাবন, মুখ্য সংগঠক সজিবুল ইসলাম, মুখপাত্র তামান্না খাতুন, দামুড়হুদা উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম সোহান ও সদস্য সচিব রাশেদ হাসান।