দর্শনা অফিস:
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করেছে কেরুজ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কেরুর ইউনিয়নের কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার এ তফসিল ঘোষণা করেন।
এসময় ৫ সদস্যর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন হয়। এ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আব্দুছ ছাত্তারকে চেয়ারম্যান করে নির্বাচন পরষদের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন প্রকৌশলী আবু সাইদ উপব্যবস্থাপক (পারসোনেল) আল আমিন, সদস্য উপব্যবস্থাপক (হিসাব) শেখ জাবেদ হাসান সদস্য, জুনিয়র অফিসার (ভূমি) সৈয়দ আফজালুর রহমানকে সদস্য করে নির্বাচন কমিটি গঠন হয়।
উল্ল্যেখ্য, একজন শ্রমিক নেতার বদলিজনিত জটিলতার কারণে শ্রমিক-কর্মচারীদের লিখিত দাবিতেই গত ৭ ফেব্রুয়ারি কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাখা হয়। প্রথম দিকে সেই শ্রমিক নেতাকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে ভোট ও তফসিল ঘোষনার দাবিতে ৩২ শ্রমিক নেতা স্বাক্ষরিত পত্র মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের কাছে দিয়েছেন। অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনার কারণে প্রশাসন এ ভোটে সহযোগিতা করবে কী-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মিলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার স্বাক্ষরিত পত্র প্রেরণ করা হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে। সে পত্রের জবাব এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন আব্দুছ ছাত্তার। মরসুম চলাকালীন নির্বাচন হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য সুবিধা। এদিকে অল্পদিনের মধ্যে চলতি আখ মাড়াই মরসুম শেষ হবে। তাই দ্রুত তফসিল ঘোষনার দাবীতে ছুটতে শুরু করেছেন নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ১২ সদস্যের শ্রমিক নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাত করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলামের সাথে। বৈঠকে আলোচনা সম্পন্ন না হওয়ায় পুনরায় সাক্ষাত করতে পারেন নেতৃবৃন্দ। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই প্রতিনিধি দলই সাক্ষাত করতে পারেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলার সাথে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন, বর্তমান পরিষদের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্স, বর্তমান পরিষদের সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, আবু সাঈদ, মহিদুল ইসলাম, হারেজুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
গত ১৮ জানুয়ারি বর্তমান পরিষদের শেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মাফিক ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে সাধারণসভা। সে সভা থেকেই ঘোষণা দেয়া হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি দ্বি-বাষিক নির্বাচন। সেই সাথে নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের তালিকা সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত করা হয়। সে কমিটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন, মিলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার, সদস্য সচিব, চিনিকলের প্রকৌশলী (পরিবহন) আবু সাঈদ, সদস্য উপ-ব্যবস্থাপক (পার্সনাল) আল আমিন, উপ-ব্যবস্থাপক (হিসাব) শেখ জাবেদ হাসান ও সহকারি ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ডিস্টিলারি, জহির উদ্দিন। তবে সম্প্রতি রাজশাহী চিনিকলে বদলি হয়েছেন জহির উদ্দিন। এদিকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছিলো ৭ ফেব্রুয়ারিতে। পুনরায় ভোটের দাবিতে সোচ্চার অবস্থানে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারী ভোটাররা। কেরুজ এলাকায় ভোটের পরিবেশ হয়েছে। সব কিছু বাধা উপেক্ষা করে ১৪ মার্চ সকাল ৮ থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল সাড়ে ৩ টা ভোট চলবে।