জীবননগর অফিস:
জীবননগরে রাস্তার পাশে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হোসেন রহমানসহ ৩ জনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে জনতা। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শাহপুরে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃরা হলেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ঘোগরা গাছি গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী, পাঁকা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আবু তালেব (৪৪) ও একই গ্রামের দিনমজুর মোতালেব হোসেন (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপুর-সাবদালপুর সড়কের ধারে বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছ লাগানো রয়েছে। তার মধ্যে ৩টি কটুই চটকা গাছ ৪৫ হাজার টাকায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হোসেন রহমান বিক্রি করে দেন কাঠ ব্যবসায়ী আবু তালেবের কাছে। গতকাল সকালে আবু তালেবসহ ৪-৫ জনকে গাছ কাটতে আসেন। গাছ কাটা শুরু করলে তখন স্থানীয় জনতা তাদের বাধা দেন। তখন সে বিএনপির নেতার হোসেন রহমানের কাছ থেকে গাছ কিনেছেন বলে জানান। স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলে কাঠ ব্যবসায়ী ফোনে হোসেন রহমানকে ঘটনার সম্পর্কে জানান, এবং কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে আসেন তিনি, তখন স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, সকালে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে সড়কের পাশে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছগুলো জব্দ করা হয়েছিল। পরে জমি মাপজোপ করে জানা যায়, গাছগুলো জেলা পরিষদের জায়গায় ছিল। এ ঘটনায় জেলা পরিষদ ব্যবস্থা নেবে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, সকালের দিকে স্থানীয় লোকজন গাছ কাটার সময় ৩ জনকে ধরে শাহপুর পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করে। পরে তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জানতে পেরেছি তারা জেলা পরিষদের জমিতে থাকা গাছ কাটছিলো, তখন স্থানীয়রা তাদের আটক করে। জেলা পরিষদ থেকে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, গাছ কাটার সময় ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় রানা মাহামুদ নামের এক ইউটিউবারকে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
অপরদিকে, এ ঘটনার পরই আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নং সহ-সভাপতি হোসেন আলীকে শোকজ করেছে উপজেলা বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাত ৯টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তাকে শোকজ করা হয়।