দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদার জয়রামপুরে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ের সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা ডাবলু’র বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রভাব বিস্তার করে টেন্ডার ছাড়াই সম্পন্ন অবৈধভাবে তিনি সরকারি এই মূল্যবান গাছ কর্তন করেন। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন সরকারি জমি থাকা পুরানো বৃহৎ আকৃতির একটি মূল্যবান শিশু গাছ রাতের আধারে হাউলি যুবদলনেতা হুমায়ুন কবির ডবলু কর্তন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। চুরি করে কর্তন কৃত গাছটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। রোববার দিবাগত গভীর রাতে মূল্যবান ওই গাছটি কাটা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছেন। অবৈধভাবে গাছ কর্তনে বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ জানার পর ঘটনাস্থল থেকে গাছটি উদ্ধার করেছেন। এমন ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর স্টেশন পাড়া আখ সেন্টারের পশ্চিম দিকে রেলওয়ের জমিতে একটি বিশাল আকৃতির মূল্যবান শিশু গাছ ছিলো। রেলওয়ের ওই জমির পার্শ্ববর্তী বাড়ির পাশের আলী হোসেন ভেবেছিল শিশু গাছটি তার জমির মধ্যে আছেন। সে কারনে কিছু দিন পূর্বে গাছটি সে ৩৫ হাজার টাকা দামে বিক্রি করেন এবং গাছটি কাটা শুরু করে। গাছটি ডালপালা কাটার সময়ে দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের সদস্য রবি’র ছেলে হুমায়ুন কবির ডাবলু এসে গাছটি কাটতে বাঁধা সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে এমন সংবাদে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসে গাছটি কর্তন করতে নিষেধ করে জানান গাছটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি। ফলে সরকারি এই সম্পত্তি কোনভাবেই কাটা যাবে না। তখন আলী হোসেন গাছটি কাটা থেকে বিরত থাকেন এবং গাছটি দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। কিন্তু গত রবিবার দিবাগত রাতে গাছটি যুবদলনেতা ডাবলু তার লোকজন নিয়ে কেটে ফেলেন। গতকাল সোমবার ভোরে শিশু গাছটি না দেখে আলী হোসেন স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং জয়রামপুর আখ সেন্টার হতে গাছের দুটি লগ উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে আলী হোসেন বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাতে ডাবলু তার অনুসারীদের নিয়ে পিকনিক করছিলেন। এসময় গভীর রাতে গাছটি চুরি করে কেটে ফেলেন। খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি গাছটি ডাবলু নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কেটেছেন। আমি যখন গাছটি কাটতে গিয়েছিলাম তখন এই ডাবলু আমাকে বাধা দিয়েছিল এবং রেল কর্তৃপক্ষের লোকজন জানিয়েছেন এটা রেলের সম্পত্তি। অথচ সরকারি গাছ জানা সত্ত্বেও ডাবলু তা কেটে নিয়েছেন। এবিষয়ে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির ডাবলু জানান, আমি গাছ কাটার সময় ছিলাম না। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সকালে গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই থানা পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ কে অবগত করি। গাছ কাটার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সভাপতি শরীফ উর জামান সিজার জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যদি কেউ কোন কর্মকান্ড করে তাহলে তার দায়ভার দল নিবেনা। যদি সে এ বিষয়ে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।
রেলওয়ে উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জয়রামপুর রেল স্টেশনের অদূরে আখ সেন্টার নামক স্থানের সামনে রেলের জাইগা থেকে একটি সরকারি শিশু গাছ কাটা হয়েছেন। এমন সংবাদ শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং গাছটি উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। যেহেতু সঠিকভাবে জানা যায়নি কে বা কারা গাছটি কেটেছে তাই অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।