নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের এনায়েতপুরে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বাদ এশা এনায়েতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মাহফিলের আয়োজন করে চারাপাড়া বাড়াদী আজিজিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। আলহাজ্ব আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথি শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে ১৬ বছর ধরে ইসলামের ওপর কালো ছায়া নেমে এসেছিল। কোরআন মাহফিলেও তারা বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাই নয়, আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পথও তারা রুদ্ধ করতে চেয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিল আয়োজনেও বাধা দেওয়া হতো। অনুমতি পেলেও বক্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি বসানো হতো, কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করা হতো। মাদরাসাগুলোর আয়ের অন্যতম উৎস কোরবানির পশুর চামড়া- সেটিও তারা নষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তারা সফল হয়নি।’
শরীফুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সন্তানেরা, শিক্ষার্থীরা ও দেশের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটিয়েছে এবং আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। হাজারো বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি। আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ অসংখ্য শহিদের ত্যাগের প্রতি আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। তারা দেশের মানুষের মুক্তির জন্য অসীম সাহস দেখিয়েছে, বুক পেতে বুলেটের আঘাতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকলের নিজ নিজ ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত দেখতে চাই। আমরা আর এই দেশে দিনের ভোট রাতে হতে দেখতে চাই না। শহিদদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত বা যে রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোক না কেন, আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। চাকরিতে প্রবেশের জন্য যেন এক টাকাও ঘুষ দিতে না হয়। আমরা বিগত ১৬ বছরের সকল অন্যায় ও বৈষম্যকে ছুড়ে ফেলে ঐক্য ও সাম্যের দেশ গড়তে চাই। আমাদের সন্তানরা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তারা পাবে তাদের ন্যায্য অধিকার, প্রতিটি মানুষ বুঝে পাবে মৌলিক অধিকার।’
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, ‘এখনই সময় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ জেলা ও দেশের জন্য সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।’
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন হযরত মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম সিরাজী এবং দ্বিতীয় বক্তা ছিলেন হযরত মাওলানা মো. আতিয়ার রহমান।
এছাড়াও মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মুকুল, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল আলম কনক, বাড়াদী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ঝন্টু, তানজিল আহমেদ ছোটন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল শুকুর, চুয়াডাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সলেমান আলী এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক টগরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মাদরাসার সভাপতি মাওলানা মো. রবিউল ইসলামের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই মাহফিল পরিচালনা করেন নতিডাঙ্গার দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মিনারুল ইসলাম।