দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সরকারী কলেজে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে বর্ণিল সব আয়োজনে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন, দর্শনা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিকুল ইসলাম। দর্শনা সরকারী কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে ১৭ স্টলে নানা রকমের পিঠা পুলির মধ্যে ছিলো পকান পিঠা, জড়া পিঠা, কুলি পিঠা, রস পিঠা, দুধ পাকান, পাটি সাপটা, প্রজাপ্রতি পিঠা, ঝিনুক পিঠা, গোলাপ পিঠা, গাজরের হালুয়া, ক্ষীর সন্দেশ, কলা পিঠা ও পায়েশসহ প্রায় ১৫ রকমের পিঠা শোভা পায় স্টলগুলোতে। এসব স্টলগুলোর নাম ছিলো নানা বাক্যে রোভার পিঠাপুলি, রসুই ঘর, পিঠা মেলার ঝুড়ি, পেটুক বাড়ীর পিঠা, পার্বণী পষার, ছয় সাথীর পিঠা ঘর, পিঠার ডালায় বন্ধুত্ব, পিঠা পুলির পার্বণ, পিঠা সংসদ, পিঠার টানে বাঙ্গলীর ঘরে, রিদয় হরণ পিঠা ঘর, শীত ও তারণ্যের পিঠা পার্বণ, পৌষ পার্বণের পিঠা বিলাস, মনোপুলি, ঢেঁকির বৈঠক খানা, জে এ এস পিঠা ঘর। এ সকল পিঠা ঘর ঘুরে ঘুরে দেখেন অতিথিরা। উৎসবের উদ্বোধনের পর শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পিঠা উৎসবের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের শীত মৌসুমে কৃষাণীর ঘরে ঘরে নানা ধরণের পিঠা তৈরী হয়। শীতের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় কৃষকরা খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন করে। সেই সাথে আমন ধানে মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠে কৃষকের ঘর। এ যেন এক প্রকৃতির এক অপরূপ মিলন করেছে সৃষ্টিকর্তা। ফলে কৃষকের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে পিঠার তৈরী ধুম পড়ে যায়। নতুন প্রজন্মকে পিঠার সাথে মিলন ঘটাতে আমোদের এ আয়োজন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর, লিহাজ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মতিউর রহমান, বাংলা বিভাগের মুকুল হোসেন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের কাইয়ুম জাহান, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক জিএস ও দর্শনা পৌর বিএনপি সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুল, সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন, দর্শনা সিডিএল এর পরিচালক আবু সুফিয়ান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তানভীর আহম্মেদ ও ছাত্র শিবিরের দর্শনা সরকারী কলেজের সাধারণ সম্পাদক হামজা ফরাজি প্রমুখ। পিঠা উৎসব শেষে প্রতিযোগিদের মধ্যে পুরুস্কার বিতরণ করা হয়।