আসমানখালী প্রতিবেদক:
‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষি উন্নয়নে যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা কৃষকদের জীবনমান উন্নত করেছিলো। তার সময়কালে কৃষি ঋণের প্রাপ্তি সহজ হয়েছিল, কৃষি উপকরণের দাম কমানো হয়েছিল, এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছিল। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিএনপি ক্ষমতায় এসে পুনরায় সেই উদ্যোগগুলো চালু করবে।’ গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের আসমানখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথি আরোও বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের কৃষিবিরোধী নীতির কারণে দেশের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সার, বীজ, কীটনাশকের অস্বাভাবিক দাম এবং ন্যায্য মূল্যের অভাবে কৃষকদের কষ্ট বেড়েছে। কিন্তু বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে কৃষি উন্নয়ন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করবো।’
কৃষক সমাবেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জেলা বিএনপির জনপ্রিয় রাখাল রাজা নামে পরিচিত এই নেতা আরোও বলেন, ‘দেশের কৃষি ও গণতন্ত্র আজ এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখে। আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী নীতির কারণে কৃষক ও সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার হারিয়েছে। এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে, আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে আহ্বান জানাই। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হলে প্রতিটি কৃষককে মাঠে থাকতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়বো।’
তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষকদের অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষি খাতে বাজেট বৃদ্ধি, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষি বিপণন ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হবে।’
গাংনী ইউনিয়ন কৃষক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক জামাল সাদিক পিন্টু। সমাবেশে প্রধান বক্তা থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন বলেন। সমাবেশের উদ্বোধক ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব এবং বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তবারক হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হাসান রাজিব খান, গাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান রেজু ও ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু।
সমাবেশে আরোও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক দলের সদস্য ফারুক হোসেন, গাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, চিৎলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহাসিন আলী ও চিৎলা ইউনিয়ন কৃষক দলের নেতা মিনারুল, ফারুক হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।