দর্শা অফিস:
আনিমা রায় ঋণ নিয়েছিলেন ৯ হাজার টাকা। কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সমিতির ফাণ্ডে জমা দিয়েছেন ৯ হাজার ৩১০ টাকা। অর্থাৎ তিনি অতিরিক্ত ৩১০ টাকা সমিতির ফাণ্ডে জমা করেছেন। কিন্তু তারপরও আইন তাকে ছাড়েনি। চড়া সুদের কবলে পড়ে কোর্ট-কাচারি না চেনা অনিমা রায়ের মতো আরও ৫ নারীর ঠিকানা হয়েছে জেলহাজতে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তদেরকে চুয়াডাঙ্গা জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা সোসাইটি অবৈধভাবে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সাবেক দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ পারভেজ, পলাশ আহমেদসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সোসাইটির নামে সমবায় থেকে একটি অনুমোদন নেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা দর্শনা থানার প্রায়ই ৫ হাজার জনের মধ্যে চড়া সুদে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। কেউ কিছু বললেই তাদেরকে পুলিশ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্নভাবে মামলা-হামলার হয়রানি করতো।
গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের পরও দর্শনা সোসাইটি আদালতে অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দর্শনা পুরাতন বাজার হিন্দুপড়াসহ বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫ নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর হিন্দুপাড়ার শ্রী বিশ্বনাথ অধিকারীর স্ত্রী আনিমা রায় (৩৫), হায়দার আলী স্ত্রী রিক্তা (৪৪), মোবারক পাড়ার আলমগীর হোসেনের স্ত্রী চাঁদনী (৪২), বিজয়পুর গ্রামের মোহাম্মদ মামুনের স্ত্রী সেলিনা বেগম(৩২), ধান্যঘরা গ্রামে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৮)।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ তিতুমীর বলেন, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত হওয়ায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শ্রী বিশ্বনাথ অধিকারী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় ছাত্রলীগ যুবলীগ মিলে দর্শনা সোসাইটি করেছিল। আমার স্ত্রীর নামে অনেকদিন আগে দর্শনা সোসাইটি থেকে ৯ হাজার টাকা লোন নিয়েছিলাম। অভাবের কারণে অল্প কয়েকটা কিস্তি না দিতে পারিনি। তবে স্ত্রীর সঞ্চায়ী হিসাব ছিল ৯ হাজার ৩১০ টাকা। ওই ঋণ সমন্বয় করলেও ৩১০ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। এখন ক্ষমতা দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দাবি করে সোসাইটি কর্তৃপক্ষ। টাকা না দেওয়ায় মামলায় পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তারি পরোনা জারি করায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ।’ তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতাশালী দর্শনা সোসাইটি ক্ষমতা দেখিয়েছে। এখনও ক্ষমতা দেখিয়ে আমার স্ত্রীকে পুলিশে ধরে দিল। এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে পলাশ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমরাই অনেক মানুষের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা পাই। টাকা না পেয়ে বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।’