জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভুল কীটনাশক দিয়ে এক বিঘা জমির কুল বাগান ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন ওমর আলী লিখন নামে এক কৃষক। উপজেলার উথলী গ্রামের ওই কৃষক গত ১৭ জানুয়ারি উপজেলার উথলী মোড়ে মেসার্স রানা ট্রেডাস নামক দোকানের কীটনাশক ব্যবসায়ী রানা মিয়ার দোকান থেকে কুয়াশায় জন্য কুল সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মোটা করার জন্য কীটনাশক চাইলে সে ১০০ টাকার মূল্যে একটি কীটনাশক দেন। পরবর্তী সময়ে কীটনাশক প্রয়োগে তিনদিন পর বাগানের অধিকাংশ গাছের পাতা ও ফল সব ঝরে যাচ্ছে। এতে অন্তত ১ লাখ ২০হাজার টাকার ক্ষতির শিকার হন ওই কৃষক। এ ঘটনায় স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী রানা মিয়া বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ঝন্টুর মাধ্যমে সালিশ বসিয়ে ১১হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষক তা না মেনে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেন। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ওই কীটনাশক ব্যবসায়ী তাকে যে কীটনাশক দিয়েছে তা মূলত আম, কাঁঠাল বা অন্য ফল পাকানো ওষুধ। ওই ওষুধ কুলে প্রয়োগ করার ফলে কুল ঝরে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ওমর আলী লিখন বলেন, আমি জমি লিজ নিয়ে নতুন কুল চাষ করছি। কুয়াশার জন্য ফল কালচে হয়ে যাচ্ছে, তাই ফল সৌন্দর্য বৃদ্ধির ও মোটা করার জন্য কীটনাশক চাইলে সে যে কীটনাশক দিয়েছে, আমি সেটাই ক্ষেতে স্প্রে করেছি। তিনদিন পর দেখি গাছ সব ফল ঝরে যাচ্ছে। বিষয়টি দোকানীকে জানালে তিনি আমাকে জানান এটা কাউকে বলার দরকার নেই আমি আর একটা ওষুধ দিচ্ছি এটা দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তারপরও সেটি দিয়ে এখন গাছের পাতা পর্যন্ত ঝরে যাচ্ছে। ধারদেনা করে কুল চাষ করেছিলাম। ফল নষ্ট হওয়ায় আমার অন্তত ১ লাখ ২০হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনিও আর বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বাড়াবাড়ি না করে ঝন্টু মেম্বারের মাধ্যমে সালিশ করে ১১হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে যায়। আমি সেটি গ্রহণ করিনি, আমি আমার ক্ষতির সঠিক বিচার চাই। উথলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যনেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ঝন্টু বলেন, রানা মিয়ার নিকট থেকে কীটনাশক লিখন ওষুধ নেন এটা সত্য তবে তিনি কি ওষুধ দিয়েছে আর কতটুকু পরিমাণ দিতে বলেছে তিনি জানেন না। তবে লিখন যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই রানা মিয়া ও স্থানীয় চাষিদের নিয়ে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ১১হাজার টাকা রানা মিয়া ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন কিন্তু লিখন তা মানেননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এবিষয়ে তিনি জানেন না। তার নিকট কেউ কোন অভিযোগ করেনি। বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্তের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তবে ওই কীটনাশক ব্যবসায়ী রানা মিয়া বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কীটনাশক বিক্রি করেনি।