আজ সোমবার | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভাষা পরিবর্তনঃ বাংলা ইংরেজি

ই-পেপার ভার্সন দেখতে ক্লিক করুন  e-paper

চুয়াডাঙ্গায়  সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাথে এসপির সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ডিবিসি টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক শিমুল হোসেন ও জেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিমকে পুলিশের হেনস্তা ও লাঞ্চিতের ঘটনায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই প্রতিবেদনে তিন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়। একইসাথে প্রতিবেদনের কপি পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পাঠিয়েছে জেলা পুলিশ। সাংবাদিক হেনস্তা ও লাঞ্চিতের ঘটনার অগ্রগতি জানতে গতকাল শনিবার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এসময় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার।
জানা গেছে, দুই সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির একমাত্র সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) নাজিম উদ্দীন আল আজাদ ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে গতকাল শনিবার সেই তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠায় জেলা পুলিশ। প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) উবাইদুল আল মামুন, সহকারি উপ পরিদর্শক (এএসআই) নাসরিন আক্তার ও কনস্টেবল শাহিন আলমের অপেশাদারমূলক আচরণের সত্যতা উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য তাদেরকে প্রাথমিক অভিযুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান (পিপিএম-সেবা) জানান, তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসাথে ওই পুলিশ সদস্যদেরকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আজাদ মালিতা, সদস্য সচিব অ্যাড. মানিক আকবর, যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক স্বপন, জান্নাতুল আওলিয়া নিশি, সদস্য রাজীব হাসান কচি ও জিসান আহমেদ।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন রাত ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের সাতগাড়ি এলাকায় একটি পারিবারিক বিবাদের মীমাংসা করতে যায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাসরিন আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স। এসময় ডিবিসি নিউজের চিত্র সাংবাদিক শিমুল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির সম্পর্কে জানতে চাই পুলিশ। শিমুল তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে হেনস্তা করে পুলিশ কনস্টেবল শাহীন। পরে তার কাছে টেলিভিশনের আইডি কার্ড দেখতে চায় পুলিশ কনস্টেবল। একপর্যায়ে বিষয়টি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলীকে জানানো হলে আরও ক্ষুব্ধ হয় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। সেই সঙ্গে যোগ দেয় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন। এসআই মামুন ও এএসআই নাসরিনের নির্দেশে চিত্র সাংবাদিক শিমুলকে পিকআপভ্যানে তোলা হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিম। এসময় তিনি পিকআপভ্যানের ছবি তুলতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এসআই মামুন।
এরপর ৩ জুন জেলা পুলিশ এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরমধ্যে গত ৫ জুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ (সুয়োমটো) গ্রহণ করে। এ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠাতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বলেছে মানবাধিকার কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুবাদ »