নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। গতকাল রবিবার আমলী আদালতে (দর্শনা থানা) এ মামলাটি দায়ের করেন তার সদ্য তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে দেড় লাখ টাকা দেনমোহরে চলতি বছরের ১১ মে এজাহারকারী নারীর বিবাহ হয়। বিবাহের পর ওই নারীর অভিভাবক ১নং আসামীকে সংসারের বিভিন্ন ধরণের আসবাবপত্র, ঘড়ি, স্বর্ণের আংটিসহ বিভিন্ন ধরণের ৫০ হাজার টাকার উপহার সামগ্রী প্রদান করে। এরই এক পর্যায়ে মুস্তাফিজুর রহমান ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে ওই নারীর পিতার কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা ঋণও নেয়। ঋণ ফেরতের কথা থাকলেও মুস্তাফিজুর রহমান তা ফেরত দেননি। এরমধ্যে শুরু হয় যৌতুকের দাবীতে অত্যাচার নির্যাতন। এক পর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন মুস্তাফিজুর রহমান পূর্বের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ ও অনৈতিক সম্পর্ক রেখেছেন। পরে ওই নারী আরও জানতে পারেন, মুস্তাফিজুর রহমান আগে আরো দুইবার বিবাহ করেছিলেন। তবে তাদের সাথে বিবাহের সময়ে আগের বিবাহের বিষয়গুলো গোপন করেছিলেন। সেসব বিষয় জানার পর ওই নারী তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানকে বললে তিনি অত্যাচার, নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। তিনমাস আগেই তিনি স্ত্রীকে মারধর করে শশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সংসার টিকিয়ে রাখার শর্ত হিসেবে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শশুর বাড়ির লোকের কাছে। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘তার এর আগেও আরও তিনটা বিয়ে হয়েছে সেটা গোপন করে রেখেছিলো। যৌতুকের জন্য আমাকে মারধর করা হতো। আবার তার সাবেক এক স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কও আছে। সে আমাকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি তাকে তালাক দিয়েছি। এখন আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’